অভিযুক্ত সিয়াম পেদা ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের ছোট শিধলকুড়া গ্রামের খোদা বক্স পেদার ছেলে। সিয়াম গোসাইরহাট সরকারি শামসুর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী স্থানীয় এক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে ওই কলেজছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর ডামুড্যা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার।
.png)
ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ জানায়, সিয়ামের সঙ্গে আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর। কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ওই কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যার ফরাজিটেক নামক স্থান থেকে সিয়াম পেদা ও তার চার সঙ্গী তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। এরপর হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞান করে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে যান সিয়াম। পরে তাকে ধর্ষণ করে শিধলকুড়া কাঠের ব্রিজের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শুক্রবার (৩১ মে) তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী জানান, কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নেশাদ্রব্য নাকে দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে মোটরসাইকেলে তলে নিয়ে যান সিয়াম। পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে চোখ বেঁধে সিয়াম তাকে ধর্ষণ করেন। সিয়ামের সঙ্গে আরো চারজন ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমার সঙ্গে সিয়ামের আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক। আমরা তিন মাস আগে স্থানীয় কাজী অফিসে বিয়ে করতে যাই। পরে আমি সিয়ামকে বলি ৫ লাখ টাকা দেনমোহর লেখতে হবে। কিন্তু সিয়াম বলছে ৫০০ টাকা দেনমোহর লেখতে। পরে বিয়ে হয়নি। এ ঘটনা নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব হয়। পরে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ে নিখোঁজ হলে আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। পরে হাত-পা, চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় ব্রিজের নিচে মেয়েকে পাই। মেয়ে বলেছে, সিয়াম তাকে ধর্ষণ করেছে। আমি সিয়ামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ এনে শুক্রবার এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। তার মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
ডামুড্যা থানার ওসি এমারত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।