ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুই লাখ টাকার জন্য ইতিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যা

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৭, ২৮ মে ২০২৪
দুই লাখ টাকার জন্য ইতিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সমিতি থেকে তোলা ২ লাখ টাকার জন্য নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ইতি বেগকে (৪২) প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে ধারালো কাঁচি দিয়ে গলাকেটে হত্যা। এরপর মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে ঘরে রেখে পালিয়ে যান ঘাতকরা।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জিয়াউর রহমান পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এই বর্ণনা দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল আসামি মনিরুল ইসলাম মনি পলাতক। 

পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের শফিকুল ইসলাম লোহাগড়া উপজেলার মোচড়া বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমামতি করেন। সে কারণে তিনি মসজিদের পাশের একটি রুমে থাকতেন। তার স্ত্রী ইতি বেগম (৪২) একাই গ্রামের বসবাস করতেন। শফিকুল-ইতি দম্পতি ছিলেন নিঃসন্তান। প্রায় এক বছর আগে মনিরুল ইসলাম মনি নামের এক ব্যক্তি ইতি বেগমের টিনশেডে ভাড়া ওঠেন।

Advertisement

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শফিকুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সর্বশেষ কথা হয়। পরের দিন ২০ এপ্রিল ইতি বেগমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ভাড়াটিয়া মনিরুলের ঘরে তালা লাগা দেখা যায়। এরপর থেকে মনিরুল নিরুদ্দেশ এবং ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন তিনি মনিরুল ইসলাম মনিকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার সন্ধান পাননি।

গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাড়াটিয়া মনিরুল ইসলাম মনির ঘরের তালা ভেঙে ঘরের মধ্যে খাটের নিচে বস্তায় ইতি বেগমের গলাকাটা মৃতদেহ পাওয়া যায়। পাশে কৃষিকাজে ব্যবহৃত একটি কাঁচি পাওয়া যায়। রক্ত যাতে ঘরের বাইরে না যায় সেজন্য বিছানার চাদর, কাঁথা ও কাপড় দিয়ে রক্ত মুছে ফেলা হয়।

এ ঘটনায় ইতি বেগমের স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাড়াটিয়া মনিরুল ইসলাম মনিসহ অজ্ঞাতনামা ১-২ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ একদল পুলিশ।
 
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ মে) রাত ১০টার দিকে গোবরা গ্রামের মৃত নেছার বিশ্বাসের ছেলে জিয়াউর রহমানকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।

বর্ণনায় জিয়াউর রহমান স্বীকার করে পুলিশের কাছে জানান, ভাড়াটিয়া মনিরুল ইসলাম মনি ভিকটিম ইতি বেগমের কাছ হতে ৫ মাস আগে ২০ হাজার টাকা এবং ৩ মাস আগে ৩০ হাজার টাকা ইট কিনে দেওয়ার কথা বলে নেন। কিন্তু মনিরুল ইট কিনে না দিয়ে ইতি বেগমকে ঘোরাতে থাকেন। ইতি বেগম জমি কেনার জন্য ব্যাংক হতে ২ লাখ টাকা লোন নেন। টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ভাড়াটিয়া মনিরুল ও গোবরা জিয়াউর রহমান জানতে পারেন।

তারা দুজন ইতি বেগমের ঐ টাকা আত্মসাৎ করতে গত ১৯ এপ্রিল দোকান থেকে স্পিড, চানাচুর, চকলেট, কেক ও ঘুমের ওষুধ কিনে নিয়ে রাত ১০টার দিকে ইতিকে খাওয়ান। ইতি বেগম অচেতন হয়ে গেলে মনিরুল ইতিকে ধর্ষণ করেন। এরপর জিয়াউর রহমানও তাকে ধর্ষণ করেন। রাত ২টার দিকে মনিরুল বুকের ওপর বসে কাঁচি দিয়ে ইতি বেগমের গলা কেটে হত্যা করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!