মোস্তাফিজুর রহমান খোকা ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পালগিরি গ্রামের জালাল মেম্বার বাড়ির মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।
সরেজমিনে বাড়িতে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর খোকাকে ফেরত পেয়ে খুশি স্বজনরা। তবে পরিবারে সদস্যদের কাউকেই চিনতে পারছেন না তিনি। স্বজনদের কথায় আস্থা রেখে মানিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। পরিবারের ধারণা, কেনাকাটা করার জন্য যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এ সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।
.png)
স্বজনরা জানান, ২০১০ সালে বিয়ের ঠিক দুদিন আগে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর নানাভাবে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি তার। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এমনকি যে নারীর সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তিনিও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করেছেন।
কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল সেই বর্ণনায় তার স্বজনরা জানান, চলতি বছর মার্চে তাদের এক প্রতিবেশী রাঙ্গামাটির তবলছড়িতে কাজ করতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান খোকাকে চোখে পড়লে তাদের জানান। পরে কখনো দেখা হলে তাদের জানালে ভিডিও করে পাঠাতে বলেন স্বজনরা। এরপর ২৫ মে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে খোকাকে আবার চোখে পড়ে ওই ব্যক্তির। পরে সেখানে তিনি ভিডিও করে তাদের পাঠান। ওই ভিডিও দেখে খোকার মা, ভাই-বোনেরা তার খোকাকে শনাক্ত করেন। পরে তাকে আনতে যান। সঙ্গে করে নিখোঁজ হওয়ার আগের বেশ কিছু ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যান।
উপজেলার তবলছড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকতেন মোস্তাফিজুর রহমান খোকা। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে প্রমাণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় খোকাকে।
ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, খোকা খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলেন। বিভিন্ন কাজে দক্ষ ছিলেন তিনি। তার ব্যবহারে স্থানীয়রা সন্তুষ্ট ছিলেন।
খোকার মা নুরজাহান বেগম বলেন, আমার কলিজার সন্তানের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। প্রতিদিন রাতে তার থাকার ঘরের বিছানা ঠিক করে দিতাম। আমার বিশ্বাস ছিল, আমার খোকা আমার কোলে আসবে। আমি মনে করেছিলাম সে অনেক কষ্টে আছে। কিন্তু তাকে রাঙ্গামাটির লোকজনের খুব আদরের হয়ে ছিল।
বোন রহিমা নাজমা বলেন, আমার ভাই তার বিয়ে ও গায়ে হলুদের কেনাকাটা করার জন্য ফেনী যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়। তখন থেকে সব জায়গায় খোঁজ করেছি। থানায় সাধারণ ডায়েরি করছি। ১৪ বছর পর আমার ভাইকে পেয়ে আমরা পরিবারের সবাই খুশি।
খোকার মামাতো ভাই নুর আলম বলেন, খোকা ভাই ওই এলাকায় (রাঙ্গামাটি) সবার সঙ্গে সুন্দর করে চলত। আমরা তাকে তবলছড়ি থেকে আনতে গেলে সেখানে সবাই খোকা ভাইয়ের সুনাম করেছে।
তবলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ও ঠিকাদার বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, আমি বাজারে একটি কাজ করতে গিয়ে খোকার দেখা পাই। এরপর তাকে আমি আমার সকল কাজে রাখতাম। সে ভালো কাজ করত। কারও সঙ্গে মন্দ আচরণ করত না।
সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, প্রায় ১৪ বছর আগে মোস্তাফিজুর রহমান খোকা নিখোঁজ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছে তার পরিবার। দীর্ঘদিন পর খোকাকে ফেরত পেয়ে খুশি স্বজনরা।