ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘সিডরের রাইতেও ঘরে এই রহম পানি আয়নাই’

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২০, ২৮ মে ২০২৪
‘সিডরের রাইতেও ঘরে এই রহম পানি আয়নাই’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘ওরে পানি, এতো পানি সিডরের রাইতেও আয়নাই। এই পানি কবে যে নামবো জানি না’ এভাবেই কথাগুলো বলেছেন উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটা চরলাঠিমারা গ্রামের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সিডর দেখছি, পানি আইছে আবার নাইম্যা গ্যাছে। কিন্তু এই বন্যায় পানি আইয়া সব তলাইয়া গ্যাছে। এহন মোগো অবস্থা খুবই খারাপ। একতে তো বাড়ি ঘর রাইখা সাইক্লোন শেল্টারে আছি, ওদিকে ঘর পানিতে তলাইয়া গ্যাছে।’

Advertisement

এদিকে, পাথরঘাটা অধিকাংশ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পাথরঘাটার কাকচিড়া বাজার সংলগ্ন বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। সেখানে পানির গতিরোধ এতটাই ছিল যা পুরো ইউনিয়নের দুই একটি গ্রাম বাদে বাকি গ্রাম ডুবে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

এরইমধ্যে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং পানিবন্দি থাকা মানুষের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অপরদিকে, ঝড়ো হাওয়ায় বরগুনার পাথরঘাটায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এতে প্রায় পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৫০টি আংশিক ও ১৩৫০ টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও মৌসুমে ফসল ও মাছের ঘেরের ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম।

কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে, অনেক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান জানান, অনেক ঘর বাড়ি গাছপালা ভেঙে গেছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলায় ১৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নিরাপদের তাদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিব বলেন, ‘পাথরঘাটার কাকচিড়া, রুহিতা, জিনতলা, চরলাঠীমারা, কাঠালতলী, চরদুয়ানি পদ্মা এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিগগির এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!