বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, রোববার রাত থেকে শুরু হয়ে রেমালের প্রভাবে সোমবার সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে ফরিদপুরে। রাতেও বৃষ্টির বাতাসের ঝাপটা ছিলো। এতে বিভিন্নস্থানে কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। আর রোববার রাত থেকেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা জেলা। এর মাঝে কিছু কিছু এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়ে এলেও গ্রামে অনেকস্থানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং গাছের ডালপালা ভেঙ্গে সঞ্চালন লাইনে বিঘ্ন ঘটায় জেলা সদরের বাইরে প্রায় সবকটি উপজেলাতেই বিদ্যুতের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ অবস্থা ছিলো। তবে মঙ্গলবার সকালের পর আস্তে আস্তে দু-একটি উপজেলায় বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হয়। তবে এখনো অনেকস্থানে বিদ্যুৎ নেই।
.png)
এ অবস্থায় কেরোসিন দিয়ে হারিকেন কিংবা কুপি জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা গেলেও বিপাকে পড়েন মোবাইল ব্যবহারকারীরা। জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজনে তাদের হাতের মোবাইল চালু রাখতে বিকল্প বেছে নিতে হয়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন জেনারেটর ব্যবসায়ীরা।
জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না বাজারে দেখা যায়, জনৈক মামুন শেখের জেনারেটর ভাড়া করে কয়েক গ্রামের লোকেরা মোবাইলে চার্জ করিয়েছেন।
মামুন শেখ বলেন, কারেন্ট না থাকায় এই ব্যবস্থা করেছি। এতে আমার যেমন দু’পয়সা আয় হলো, মানুষেরও উপকার হলো।
ময়না গ্রামের বাসিন্দা কসমেটিক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, গক তিনদিন ধরে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। ফলে মোবাইল বন্ধ হয়ে রয়েছে। এখন আমরা ময়না বাজারে এসে ২০ টাকা দিয়ে মোবাইলে চার্জ করিয়ে নিয়েছি। বিদ্যুৎ না আসলে আবার হয়তো রাতে অনেকেরই মোবাইলে চার্জ দিতে হবে জেনারেটরে।
রং মিস্ত্রি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ছাড়াতো কোন কাজই এখন চলে না। কাজের প্রয়োজনে যেমন মোবাইলে যোগাযোগ করতে হয়, তেমন অবসর সময়ও কাটে এই মোবাইল দেখে।
ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এসএম নাসির উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে রোববার ও সোমবার মনিটরিং বাদে লাইনের কোনো কাজই আমরা করতে পারিনি। মঙ্গলবার থেকেই সব এলাকায় কাজ চলছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলার মেইন লাইনসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদে সব লাইন চালু করা হয়েছে। তবে যেখানে বিদ্যুতের লাইনের উপর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে, খুঁটি হেলে গেছে, ট্রান্সমিটার বিকল বা অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটেছে, সেসবস্থানে এখনো কাজ চলছে। আশা করা যায় শিগগিরই সেসবস্থানে বিদ্যুৎ চালু করা যাবে।