ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দক্ষিণ উপকূলে জলোচ্ছ্বাস আতঙ্ক, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২৬ মে ২০২৪
দক্ষিণ উপকূলে জলোচ্ছ্বাস আতঙ্ক, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাত যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বেড়িবাঁধ এলাকার মানুষের। শনিবার বিকেল থেকে চলমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘরে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ।

এদিকে, রোববার সকাল থেকে গোটা উপকূলজুড়েই অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। আর দানবীয় গতির বায়ু চাপের সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত।

এরইমধ্যে ধুলাসার এলাকায় স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার পথে রোববার দুপুরে প্রাণ হারিয়েছেন শরিফুল নামের এক যুবক। যার মরদেহ প্রায় ঘণ্টা বাদে উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

এদিকে, জলবায়ুর প্রভাবে অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের ফলে তলিয়ে গেছে লোকালয়। উপজেলার চাকামইয়া, চম্পাপুর, নীলগঞ্জসহ বালীয়তলী ইউপির একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙনে পানিবদ্ধতার কবলে পড়েছেন অন্তত ১৬ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রশাসনের পাশাপাশি সিপিপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। তাদের দেখভাল করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন সিপিপি ভলান্টিয়াররা।

অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে মধ্যে রাতে অথবা তারও আগে কাছাকাছি সময় এমনটা জানাচ্ছেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

তারা বলছেন, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে রাতে পানি প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বেড়িবাঁধের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে এমন মানুষদের রাতের জোয়ারের আগে নিরাপদে নিয়ে আসার সব প্রচেষ্টা চলছে।

কলাপাড়ার ইউএনও রবিউল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সব চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমি নিজেও মাঠে কাজ করছি। কোথাও সমস্যা হলে জরুরি কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করে সহায়তা, সহযোগিতা পাচ্ছেন বন্যাকবলিতরা। মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সব প্রচেষ্টাই চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!