ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

র‍্যাবের হেফাজতে নারীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, যে তথ্য দিলো র‍্যাব

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৬, ১৮ মে ২০২৪
র‍্যাবের হেফাজতে নারীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, যে তথ্য দিলো র‍্যাব
ফাইল ফটো

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে র‍্যাব হেফাজতে সুরাইয়া খাতুন (৫২) নামের এক নারী আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে র‍্যাবের দাবি, গরমে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ঐ নারী।

শুক্রবার (১৭ মে) সকাল ৭টার দিকে সুরাইয়া খাতুনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে তাকে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার গেট থেকে আটকের পর গভীর রাতে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।

Advertisement

নিহত সুরাইয়া খাতুন নান্দাইল উপজেলার বরুনাকান্দি গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি রেখা আক্তার (২০) নামে পুত্রবধূ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

এছাড়া নিহতের ছেলে তাইজুল ইসলাম লিমনকে (২৩) নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে একইরাতে আটক করা হয়। আটককৃত দুজনসহ মোট তিনজন নান্দাইল এলাকার গৃহবধূ রেখা আক্তার (২০) হত্যা মামলার আসামি। অপর আসামি নিহত সুরাইয়ার স্বামী আজিজুল ইসলাম (৬০)।

আসামিরা সম্পর্কে নিহত রেখার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। র‍্যাবের দাবি, রাতে মা-ছেলেসহ দুই আসামিকে আটকের পর ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের ভেতরে রাখা হয়। এ সময় গরমে অসুস্থ হয়ে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সুরাইয়া।

এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, র‍্যাব শারীরিক নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে তারা আদালতে মামলা দায়ের করবেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, দেড় বছর আগে একই উপজেলার ভেড়ামারি গ্রামের কৃষক হাসিম উদ্দিনের মেয়ে রেখা আক্তারের সঙ্গে তাইজুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী তাইজুল দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য রেখাকে চাপ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে টাকা দিতে অস্বীকার করে রেখার পরিবার। এরই জেরে গত ২৬ এপ্রিল রেখাকে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি নির্যাতন করেন। পরে আহত অবস্থায় ইশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। এ ঘটনায় গত ২ মে রেখার মা রমিছা বেগম ময়মনসিংহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তিনজনকে (স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি) অভিযুক্ত করে একটি মামলা করে।

আদালতের বিচারক মামলার শুনানি শেষে নান্দাইল থানার ওসিকে মামলাটি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে গত ১৩ মে নান্দাইল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এরইমধ্য ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার রাতে থানার গেটে গিয়ে শ্বশুরকে ছেড়ে দিয়ে সুরাইয়াকে আটক করে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসেন।

নিহত সুরাইয়া খাতুনের স্বামী আজিজুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে পুলিশ কৌশলে থানায় ডেকে নিয়ে র‍্যাবের হাতে তুলে দিয়েছে। খবর পেলাম সে রাতেই মারা গেছে। র‍্যাবের নির্যাতনে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি এ বিষয়ে আদালতে মামলা করবো। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে কি-না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। বলেন, ময়নাতদন্তেই তার প্রমাণ হবে।

এদিকে, ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ এর এএসপি আব্দুল হাই চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, র‍্যাব হেফাজতে থাকাকালে আসামি বুকে অসুস্থ বোধ করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!