ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ব্রিজ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের মেলেনি সাড়া, দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর
প্রকাশিত: ১৫:১২, ১৩ মে ২০২৪
ব্রিজ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের মেলেনি সাড়া, দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ
বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পাঁচ বছর পরও নির্মিত হয়নি গাজীরপাড়া-বাঙ্গালপাড়া খালের ওপর ব্রিজ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পাঁচ বছর পরও নির্মিত হয়নি গাজীরপাড়া-বাঙ্গালপাড়া খালের ওপর ব্রিজ। পাঁচ বছর আগে বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায় ব্রিজটি। তখন থেকেই ১০টি গ্রামের মানুষের কপালে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি লেগেছে। বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও ব্রিজের নির্মাণের কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে গাজীরপাড়া-বাঙ্গালপাড়া এলাকার ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজীরপাড়া থেকে বাঙ্গালপাড়া গ্রামের ছমির আলীর বাড়ির পাশে খালের ওপর একটি সরু ব্রিজটি ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঐ বছরের বন্যায় ব্রিজটি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেলে ব্রিজের জায়গাটি ভেঙে আরো বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এই ব্রিজের পূর্বে রয়েছে গাজীরপাড়া বাজার নামে একটি বড় বাজারসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। পশ্চিমে রয়েছে বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

এই ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে অসহনীয় দুর্ভোগে দিন পার করছেন এই এলাকার মানুষ। দীর্ঘ পাঁচ বছরেও নতুন করে আরেটি ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় গাজীরপাড়া, ডেরুরবিল, বাঙ্গালপাড়া, চর গাজীরপাড়া, আচ্চাকান্দি, বিলের পাড়, কতুবেরচর, নিলেরচর, দপরপাড়া, কলাকান্দা গ্রামের বৃদ্ধ, শিশু, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, যানবাহন মালিক, জমির মালিকসহ সব শ্রেণির মানুষ যাতায়াত নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

Advertisement

বিশেষ করে কৃষকরা তাদের জমির ফসল বাড়িতে নিয়ে আসতে বা বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বর্ষাকালে বা বন্যার সময় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ যেতে হলে বা প্রয়োজনের তাগিদে শহরে যেতে হলে বাড়তি ৬ কিলোমিটার ঘুরে তাদের সেখানে যেতে হয়। এছাড়াও কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স আসতে হয় ৬ কিলোমিটার ঘুরে। ফলে সব কাজের জন্য বাড়তি সময় ও বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

কৃষক আকবর আলী বলেন, ব্রিজ না থাকার ফলে অনেক পথ ঘুরে উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে হয়। এক দিকে সময় অপচয় অন্যদিকে গুনতে হয় বাড়তি টাকা।

বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পাঁচ বছর পরও নির্মিত হয়নি গাজীরপাড়া-বাঙ্গালপাড়া খালের ওপর ব্রিজবাঙ্গালাপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। রাতের বেলায় কোন ভ্যান গাড়িও পাওয়া যায় না। তাছাড়া শহর থেকে কোনো গাড়ি আসলেও রোগির দফারফা শেষ হয়ে হয়।

একই কথা বলেন মুসলিম উদ্দিন। তার এক আত্মীয় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর প্রসব বেদনা উঠলে কোনো গাড়ি না পেয়ে কাঁধে করে বকশীগঞ্জে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি রক্ষা পান।

গাজীরপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম হিটলার বলেন, এই খালের ওপর ব্রিজ না থাকায় আমরা খুবই কষ্টে আছি। যেখানে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে ব্রিজ না থাকায় সেখানে এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। বন্যা ও বর্ষাকালে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয় আমাদের। বার বার স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। অবিলম্বে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, মানবিক কারণেও হলেও এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা উচিত। আমিও একাধিকবার ব্রিজ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে অবগত করেছি। তাই এলাকাবাসীর জনদুর্ভোগ কমাতে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

বকশীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামছুল হক বলেন, গাজীরপাড়া বাজারের পর পশ্চিম পাশে অবস্থিত খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এরইমধ্যে এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক এটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!