সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার সোনাতলা বিভিন্ন রাস্তায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির উঠানে শত শত গাছে এই কৃষ্ণচুড়া ফুল ফুটে আছে। বিশেষ করে সোনাতলা-বালুয়াহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বোচারপুকুর নামক স্থানে কৃষ্ণচূড়াগাছের ফুল নিসর্গপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে। খাঁ খাঁ বিরান পথে অন্যকোনো গাছ চোখে না পড়লেও চোখ আটকে যাচ্ছে এই কৃষ্ণচুড়াগাছে।
সোনাতলার থানা মোড়, আড়িয়া ঘাট, হরিখালী, পশ্চিম তেকানী, চরপাড়া, কর্পুর, বালুয়াহাট এলাকাগুলোর পথের ধারে বেশ কয়েকটি গাছে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে আছে। ছোট ছোট আকৃতির সিঁদুর রাঙ্গা অসংখ্য এ ফুলগুলো যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে রাস্তার সৌন্দর্য। ক্লান্ত পথিকরা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এসে প্রাণ জুড়াচ্ছেন। কেউবা কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে নিচ্ছেন সেলফি, করছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড।
.png)
আর এসব কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই কবিরা লিখেছেন নানান পঙ্ক্তি। গান গেয়ে উঠেছেন শিল্পীরা ‘কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে, তুমি আসবে বলে’র মতো জনপ্রিয় গান।

এই কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়েই দ্রোহ ও প্রেমের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ লিখেছিলেন, আমি কৃষ্ণচূড়াকে প্রেম ভেবে/কোনো এক বসন্তের রাতে/গোপনে বুকে রেখেছিলাম/তখন বসন্ত ছিলো/আমার কোকিল ছিলো। কবি শামসুর রহমান এই কৃষ্ণচূড়া ফুলকে তুলনা করেছিলেন শহীদের রক্তের সঙ্গে। বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনার রঙ’।
কবি ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ খৈয়াম কাদের বলেন, বাংলার নিসর্গ অপার ঐশ্বর্যে ভরপুর। নানান ঋতুতে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ নানা রঙের সৌন্দর্যে রূপবতী হয়ে ওঠে। বাংলার প্রকৃতির এই অপরূপ বৈচিত্র্যময়তার এক অনন্য সংযোজন কৃষ্ণচূড়ার আলতালালের বাহার। পথে পথে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ যেন আকাশকে আবিষ্ট করে ফেলে, বাতাসে ভেসে বেড়ায়। নবযৌবনের মৌসিক্ত উষ্ণপ্রেমের প্রতীক কৃষ্ণচূড়ার লালারঙা ফুল।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম delonix regia। এটি সেভিসি (Sabaceae) গোত্রের উদ্ভিদ।
কৃষ্ণচূড়া গাছ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের সর্বত্র আছে। ভারত ও পাকিস্তানে কৃষ্ণচূড়া ‘গুলমোহর’ নামে পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া মধ্যম আকৃতির পত্র ঝরা বৃক্ষ। শীতের সময় গাছের সব পাতা ঝরে যায়। কৃষ্ণচূড়া ফুল জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার হয়। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুলাই মাসজুড়ে ওই ফুল শোভাবর্ধন করে থাকে। গাছের প্রজাতি ভেদে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। বাংলাদেশে লাল ও কমলা রঙের ফুল বেশি দেখা যায়। বসন্তের শুরুতে এ ফুলের সৌন্দর্য শুরু হয়ে বর্ষা পর্যন্ত থাকে।