বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ঝড়-ঝঞ্ঝা লেগেই থেকেছে। প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির জন্য চারদিকে হাহাকার পড়ে গেছে। প্রচণ্ড খরতাপে প্রাণ-প্রকৃতি যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। দুর্বিষহ এ গরম থেকে স্বস্তি পেতে বৃষ্টির আশায় রাজশাহীতে ধুমধাম করে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বরের নাম রাখা হয়েছিল শিমুল এবং কনের নাম মেঘলা।
বুধবার থেকেই প্রতীকী এ বিয়ের আয়োজন শুরু হয় রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইলে। এ গ্রামের বাসিন্দারা পাহাড়ি গোষ্ঠীর। নিজস্ব রীতিনীতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাঙের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
.png)
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এমন ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠানে পবা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভুগরইল খ্রিস্টানপাড়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নানা বয়সী শতশত আদিবাসী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তারা দুটি পুরুষ ও স্ত্রী ব্যাঙ ধরে তাদের বিয়ে দেয়।
খ্রিস্টান পল্লীর মানুষজন প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টির আশায় নানা গান ও গীতের তালে তালে নেচেছেন। অনুষ্ঠানের সময় খেলেছেন রঙও। সর্বশেষে দুপুরে তারা বিবাহিত ব্যাঙ দুটিকে কলাপাতার বাক্সে ভরে বালতিতে নিয়ে পুরো খ্রিস্টান পল্লীতে ঘুরে বেড়ান আর নাচেন। সঙ্গে ছিল ঢোল আর বিয়ের শানাই। যেন সত্যি সত্যি খ্রিস্টান কোনো তরুণ-তরুণীর বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল সেখানে। এসময় আদিবাসী পল্লীর মানুষজনের কাছ থেকে চাল, ডাল, মুরগি ও মসলা সংগ্রহ করে খাবারের আয়োজন করা হয়।
ব্যাঙের বিয়ের অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন স্থানীয় খ্রিস্টান পল্লীর অঞ্জলী বিশ্বাস। মূলত তিনিই ফাদার সেজে পুরুষ ও নারী ব্যঙের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কনেপক্ষে কনে ব্যাঙের মা স্থানীয় নওহাটা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জয়া বিশ্বাস। বিয়ের এই পুরো আয়োজেন খ্রিস্টান পল্লীর গ্রামবাসী তাদের সহযোগিতা করেন।
আয়োজক অঞ্জলী বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির জন্য চারদিকে হাহাকার। কোথাও পানি নেই। মুসলমানরা বৃষ্টির জন্য নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু তারপরও বৃষ্টি হচ্ছে না। আগে বৃষ্টির জন্য ব্যঙের বিয়ের আয়োজনের বেশ প্রচলন ছিল। কিন্তু এটি এখন অনেক কমে গেছে। তাই পুরোনো সেই রীতি ধরে রাখতে বৃষ্টির আশায় আমাদের এই আয়োজন।
কনে ব্যাঙের মা জয়া বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় রাজশাহীসহ সারাদেশ আজ মরুভূমি হয়ে গেছে। রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকায় নলকূপে মানুষজন পানি পাচ্ছে না। খাবার পানি, সেচের পানি জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে, পুকুর শুকিয়ে গেছে। তাই আমরা বৃষ্টির জন্য আমরা এই আয়োজন করেছি।