পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার সড়কের পাশেই বসে আনারস বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাহাড়ি এক নারী।
তিনি জানান, এই গরমে একটি ছাতা ছড়িয়ে বসে প্রতিদিন কয়েকশ আনারস বিক্রি করেন। প্রতিটি আনারস ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি করেন। যা আয় হয় তা দিয়েই চলে যায় তার সংসার। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফলের মৌসুমে আনারসের পাশাপাশি অন্যান্য ফলও বিক্রি করেন তিনি।
.png)
জানা যায়, মুসলিম পাড়া, বাইল্যাছড়ি ও ১০ নম্বর ইসলামপুরসহ মাটিরাঙ্গার বেশকিছু স্থানে আনারসের চাষ করা হয়।
আনারস কিনতে আসা আব্দুর করিম বলেন, পাহাড়ের আনারস রসালো ও সুস্বাদু। দাম একটু বেশি হলেও চাহিদাও বেশি। আমি পাঁচ জোড়া আনারস কিনতে আসছি। নিজে খাব, একই সঙ্গে প্রতিবেশীদেরও দিব।
আনারস চাষি রহিম বলেন, আমি এবার ৩ একর জমিতে আনারসের চাষ করেছি। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে, গরমে তীব্রতায় এ বছর দামও বেশি। তাই এবার লাভবান হবো বলে আশা করছি।

আনারস চাষি কাজল বলেন, এবার আমি অল্প জমিতে আনারস করেছি ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে শেষে বিক্রি করা যাবে। এবার দাম ভালো, যদি বেশি জমিতে চাষ করতাম তাহলে বেশ লাভবান হতাম।
আরেক চাষি আবুল মিয়া বলেন, আগে অতিবৃষ্টি, ভাইরাস ও মাটি দূষিত হওয়ার কারণে আনারস পচে নষ্ট হলেও এবার তেমনটি হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। দামও বেশি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আনারসের আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৮৫ হেক্টর জমি। উৎপাদন ১৭০০ মেট্রিকটন। এ বছর ২০২২-২৪ অর্থ বছরে ৮০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ করা হয়। আর সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮০০ মেট্রিকটন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী জানান, পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস বেশ সুস্বাদু ও রসালো। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে সমতলের বিভিন্ন জেলায় এই আনারস বাজারজাত করা হচ্ছে। এটি লাভজনক ফসল, ফলে আনারস চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।