সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি শহরে বনরূপা বাজারের সমতাঘাটে সারি সারি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ‘হানিকুইন’ জাতের আনারসের ভরপুর। রসে টইটম্বুর সুস্বাদু ও বেশ মিষ্টি পাহাড়ি এই আনারস। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কৃষকরা পাইকারি ব্যবসায়ীর আশায় আনারস নিয়ে নৌকায় বসে আছেন এবং বিক্রিও করছেন। এছাড়া বর্তমানে এ জাতের আগাম আনারসে ভরপুর রাঙ্গামাটির বাজারগুলো। তবে আনারসের আগাম ফলন ভালো হওয়ায় ন্যায্য দাম নিয়ে খুশি চাষিরা। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরের বাজারগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে আনারস। এছাড়াও শহরের বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রামেও সরবরাহ হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত দেশীয় আনারসে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে এবং আগস্ট মাসে আনারস পাকে। কিন্তু হানিকুইন আনারস জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে আসা শুরু হয়েছে। হানিকুইন ‘জলডুপি’ হিসেবেও পরিচিত। চোখ সূচালো ও উন্নত। গড় ওজন প্রায় এক কেজি। পাতা কাঁটাযুক্ত ও পাটল বর্ণের। হানিকুইন বেশ মিষ্টি আনারস। মধুর মতো মিষ্টি বলেই এই নাম।
.png)
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা চাষি স্মৃতিবিন্দু চাকমা জানান, এবার তিনি এক একর জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে এবং ন্যায্য দামও পাচ্ছেন। এবার ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। এতে খুশি তিনি।
একই ইউনিয়নের বাসিন্দা আনারস চাষি জিকু চাকমা জানান, এখন অনেকেই আগাম আনারসের চাষ শুরু করেছে। আগাম ফল আসলে ভালো লাভে বিক্রি করা যায়। এই আনারসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে সমতলে।
নানিয়ারচর উপজেলা থেকে শহরের বনরূপা সমতাঘাট বাজারে আনারস বিক্রি করতে আসা চাষি প্রীতিসেন চাকমা জানান, আগাম আনারস চাষ করতে যা খরচ হচ্ছে তা এবার পুষিয়ে নেয়া যাবে। কারণ আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ন্যায্য দামও পাচ্ছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী কুমিল্লার হাবিব জানান, তারা চাষিদের কাছ থেকে পাইকারিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে প্রতিজোড়া আনারস ক্রয় করেছেন। বর্তমানে আনারসগুলো ছোট, বড় এবং মাঝারি বাছাই করে ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের আনারস কিন্তু বিখ্যাত। দেশেজুড়ে এটির একটি সুনাম আছে। এটির প্রতি বাইরের পর্যটকরা আকৃষ্ট। জেলায় বেশির ভাগই আনারসের চাষ হয় নানিয়ারচর উপজেলায়। তাছাড় রাঙ্গামাটি সদর ও লংগদু উপজেলায় প্রচুর আনারসের চাষাবাদ হচ্ছে। সাধারণত আনারসের উৎপাদন হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ। কিন্তু বর্তমানে যে আগাম আনারসের উৎপাদন হচ্ছে সেগুলো বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে ‘রাইফেন’ নামের হরমোন জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এই আনারসের জাতের নাম হচ্ছে ‘হানিকুইন’। ‘রাইফেন’ হরমোন দিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যেসব আনারসের উৎপাদন হচ্ছে সেগুলো মানুষের দেহে কোনো ক্ষতি হবে না।