ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১শ’ টাকায় তরমুজ, ৩০ টাকায় আনারস বিক্রি শুরু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ২২ মার্চ ২০২৪
১শ’ টাকায় তরমুজ, ৩০ টাকায় আনারস বিক্রি শুরু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুরে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি শুরু হয়। এবারে গরুর মাংসের পর ১০০ টাকায় তরমুজ ও ৩০ টাকায় আনারস বিক্রি শুরু হয়েছে।

এতে প্রথম দিনেই বিপুল সাড়া পড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এসব কিনতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে ডা. নাহিদ উল হকের প্রচেষ্টায় স্বল্পমূল্যে তরমুজ ও আনারস বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে শহরের প্রেস ক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এ দুটি ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে বিক্রি করা হবে তরমুজ ও আনারস। ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে প্রথম দিনে অসংখ্য ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ ক্রেতারা এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় সাধুবাদ জানান।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। প্রতি পিস তরমুজ ১০০ টাকা (ওজন ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি) এবং প্রতি পিস দুইশ টাকা (ওজন ৫ থেকে ৬ কেজি) বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া আনারস প্রতি পিস ৩০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

তরমুজ কিনতে আসা এক রিকশাচালক বলেন, রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। রোজা থেকে ফল দিয়ে ইফতারি করবো, ফলের দাম বেশি হওয়ায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তরমুজ তো নাগালের বাইরে ছিল। কম দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে শুনে একটি তরমুজ নিয়েছি। দাম নিয়েছে ১০০ টাকা, ওজন হবে আড়াই কেজি। 

তিনি আরো বলেন, বাজারে এই তরমুজের দাম হবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। শুনেছি এক ডাক্তার এই উদ্যোগ নিয়েছেন, অনেক দোয়া করি তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া দুটি আনারস নিয়েছি ৬০ টাকা দিয়ে।

তরমুজ কিনতে আসা আরেক ব্যক্তি বলেন, বড় একটি তরমুজ ২৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। বাজারে এর মূল্যে কমপক্ষে ৬০০ টাকা। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। ওই ডাক্তারের মতো আরো মানুষ এগিয়ে এলে দরিদ্র মানুষ বেঁচে যেত। 

স্বল্পমূল্যে তরমুজ ও আনারস বিক্রির উদ্যোক্তা ডা. নাহিদ উল হক বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রমজানে তরমুজ ও আনারস কিনতে পারছে না দরিদ্র মানুষ। বিষয়টি বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনসাধারণ রমজানে যেন একটু স্বস্তিতে থাকতে পারেন সেজন্যই এ প্রচেষ্টা। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশতিনি আরো বলেন, এর আগে ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করেছি। আজও গুহ লক্ষ্মীপুর এলাকায় ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছি। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে তরমুজ ও আনারস বিক্রি শুরু করেছি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। 

ডা. নাহিদ উল হক বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। দরিদ্র রোগীরা তাদের কষ্টের কথা বলেন আমাকে। তাদের কষ্টের কথা শুনেই রমজানে স্বল্পমূল্যে মাংস, তরমুজ ও আনারস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিদেরও এ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!