ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গরমে হাসপাতালে বাড়ছে হৃদরোগী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ১ মে ২০২৪
গরমে হাসপাতালে বাড়ছে হৃদরোগী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘সোমবার রাতে বাবা হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখালে তিনি ইসিজি করানোর কথা বলেন। ইসিজিতে বাবার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর এখানে নিয়ে আসি। এনজিওগ্রাম করানোর জন্য বলেছেন চিকিৎসক। কিন্তু সিরিয়াল পাওয়া নিয়ে চিন্তায় আছি। শুনেছি, আমাদের আগে আরো অনেকে সিরিয়ালে আছেন। বেসরকারি হাসপাতালে গেলে তাড়াতাড়ি করাতে পারবো। কিন্তু খরচ তো বেশি। তাই চাইলেও সেখানে করাতে পারছি না।’

এভাবে কথাগুলো বলছিলেন ফটিকছড়ি থেকে আসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের এক রোগীর ছেলে মো. ইমরান হোসেন।

জানা গেছে, দেশজুড়ে চলা তীব্র তাপদাহের ফলে বিভিন্ন রোগের প্রকোপের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে রোগী বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

Advertisement

চিকিৎসকরা বলছেন, গরম বাড়ার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্কদের অনেকে। এছাড়া আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত অনেকে বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। হঠাৎ রোগী বাড়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরাও।

রোগীর অবস্থাভেদে অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে এনজিওগ্রাম কিংবা রিং লাগানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু চমেকের হৃদরোগ বিভাগের দুটি এনজিওগ্রাম মেশিনের একটি মেশিন নষ্ট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে জরুরি সেবা পাচ্ছেন না অনেক রোগী। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও এনজিওগ্রাম কিংবা রিং লাগাতে না পারায় ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।

চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশীষ দে বলেন, গরম বাড়ার ফলে আমাদের হৃদরোগ বিভাগে রোগীর চাপ বাড়ছে। এখানে অনুমোদিত শয্যা আছে ৮০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী আছে তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে একটি এনজিওগ্রাম মেশিন দীর্ঘ সময় ধরে নষ্ট থাকার কারণে অনেক রোগীর এনজিওগ্রাম, রিং লাগানো, পার্মানেন্ট পেসমেকার স্থাপনের কাজ সঠিক সময়ে করানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে ছয়টি শয্যা নিয়ে হৃদরোগ বিভাগ চালু হয় বৃহত্তর চট্টগ্রামের এ হাসপাতালে। ধীরে ধীরে সেটি ৮০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে হৃদরোগীর প্রকোপ যেহেতু বেশি, সে হিসেবে এ সংখ্যা একেবারে অপ্রতুল। বর্তমানে শয্যা সংখ্যার আড়াই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকে এ হাসপাতালে। ফলে সেবার মান নিয়েও প্রায় সময় উঠে নানা অভিযোগ।

বর্তমানে প্রায় সব বিভাগে অধ্যাপক পদ থাকলেও হৃদরোগ বিভাগে নেই কোনো অধ্যাপক পদ। চারজন সহযোগী অধ্যাপক, আটজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং তিনজন কনসালটেন্ট কর্মরত আছেন এ বিভাগে। তবে হাসপাতালে অনুমোদিত পদ আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক ও দুজন সহকারী অধ্যাপকের। বাকিরা সবাই কাজ করছেন সংযুক্তিতে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!