মেয়ে, জামাতা ও নাতিদের হারানো শোকে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ বারেক মৃধা বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আহারে আমার সোনারে, কত যত্নে তোদের বড় করেছি। তোরা আমার বুকটা এভাবে খালি করে গেলি? মেয়ে গেলো, জামাই গেলো, নাতি দুইটাও চলে গেলো, আমি এখন কিভাবে বাঁচবো? কে আমার খোঁজ খবর নেবে? তোদের জন্য আমিও আর বেশিদিন বাঁচতে পারবো না।’
এভাবেই বুক চাপড়িয়ে আহাজারি করেন বৃদ্ধ বারেক। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করে। এই শোকে পরিবারের সঙ্গে কান্না করছেন এলাকাবাসীও। অকাল এবং আকস্মিক মৃত্যুতে সান্ত্বনা দিতেও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজন এবং এলাকাবাসী।
.png)
স্বজনরা জানান, রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামের একই পরিবার থেকে ছয়জনে দুপুরের ভাত খেয়ে একটি প্রাইভেটকারে বরিশাল যাচ্ছিলেন। গাবখান ব্রিজের টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে টোল দিচ্ছিল ড্রাইভার। এরইমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক ধাক্কা দিলে দুমড়ে-মুচড়ে যায় প্রাইভেটকারটি।
এ সময় গাড়িতে থাকা একই পরিবারের হাসিবুর রহমান (৩২), স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২৭) সন্তান তাকিয়া (সাড়ে চার বছর), তাহমিদ (৮ মাস), সদ্য বিবাহিত বিমানবাহিনীর সদস্য ইমরান (২৬) ও তার স্ত্রী নিপা (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নাহিদা ও নিপাকে বাবার বাসায় সকাল ৯টায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন দেওয়া হয়।
ঘরে বসে বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন নাহিদার বোন তরিকা আক্তার। তিনি সাংগর গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে।
তরিকা আক্তার জানান, দুপুর দেড়টার দিকে সবাইকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রাইভেটকারে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় তারা মারা যান।
বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘ওরে নাহিদা, ওরে নিপা তোদের ছাড়া আমি কেমনে থাকবো। তোদের ছোট ছোট সন্তানদেরও আদোর করে দিলাম। এটাই যদি শেষ আদোর হবে বুঝতাম তাহলে আরো বেশি করে আদোর দিতাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছোট বোন নিপার একমাস আগে বিয়ে হয়েছে। বোনজামাই বিমান বাহিনীতে চাকরি করে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তুলেও দেওয়া হয়নি। ওদের হাতের মেহেদিও এখন পর্যন্ত মুছে নাই। নববিবাহিত দম্পতির ইচ্ছা ছিল বরিশাল থেকে কুয়াকাটা গিয়ে হানিমুন করবে। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। এখন হানিমুনের পরিবর্তে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো।’
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ঝালকাঠির গাবখান টোল প্লাজায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও তিনটি অটোরিকশাকে ধাক্কায় দেয়। এতে নারী, শিশুসহ ১৪ জন নিহত হন।