আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতেও কড়া পাহারা বসিয়েছে, দিনেও চলছে কঠোর নজরদারি।
স্থানীয়দের দাবি, এত কড়া পাহারার মধ্যেও ফাঁক গলিয়ে বেশকিছু রোহিঙ্গা এরই মধ্যে গোপনে অনুপ্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন চর ও দুর্গম এলাকা এবং ঝাউবনে লুকিয়ে থেকে অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে আরো দুই হাজার রোহিঙ্গা। এরই মধ্যে নৌকা বোঝাই করে আসা কিছু রোহিঙ্গাকে আটকের পর পুশব্যাকও করা হয়েছে। বেশ কয়দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সীমান্তে।
.png)
একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন (১১ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় এসে আশ্রয় নিয়ে বেশকিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চলে গেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে বিজিবির দাবি, কোনো রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ তাদের জানা নেই।
পুশব্যাক করা রোহিঙ্গাদের দাবি, এবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মগদের সশস্ত্র বাহিনী আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর চড়াও হয়েছে। সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তারা এপারে চলে আসতে চেষ্টা করছেন।
গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদী সংলগ্ন গোলাপাড়া ঝাউবন বরাবর অনুপ্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা আটক করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় ২৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল বাংলদেশে। এ সময় ১২ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং ৫ জন শিশুসহ ৩ জন দালালকে আটক করা হয়।
কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপনীয়তা বজায় রেখে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই করার পর তাদের পুশব্যাক করা হবে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, শাহপরীর দ্বীপ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টায় বর্তমানে নাফ নদীর ওপারের মনডিপাড়া চরে কমপক্ষে ২ হাজার রোহিঙ্গা লুকিয়ে আছেন। সুযোগ বুঝে তারা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লবণচাষি করিম বলেন, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত গভীর রাতে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ গোলার ঝাউবাগান এবং কচুবনিয়া দুর্গম চরে সন্দেহভাজনদের আনাগোনা দেখতে পাই আমরা। দুর্গম ও খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেখানে যেতে ভয় করে অনেকেরই। সহজে বিজিবির সদস্যদের সেখানে টহলে যেতে দেখা যায় না। এই দুর্গম পথকে বেছে নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা।
স্থানীয়দের দাবি, তিন-চারদিনের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে ২ শতাধিক রোহিঙ্গা। শাহপরীর দ্বীপে ৪ দালালদের মাধ্যমে তারা এপারে পৌঁছায়। জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে দালালচক্র।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সবাই রাখাইনের বুথেডং গ্রামের বাসিন্দা। মংডুর কয়েকটি গ্রামের রোহিঙ্গা তারা। তারা ওপারের নাফের তীরে আশ্রয় নিয়ে দুই একদিন পর নৌকা নিয়ে এপারের শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চলে যায়।
অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা তৈয়ব বলেছেন, আমরা ১৫ জন দলবদ্ধ হয়ে নদীর পাড়ে কেউ ঝাউবাগানে একদিন কাটিয়েছি। এর পরদিন জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে নৌকা ভাড়া করে সীমান্তের পাহারা এড়িয়ে আমরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে উঠেছি। শাহপরীর দ্বীপ থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় আত্মীয়ের কাছে এসেছি।
শাহপরীর দ্বীপ বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার আবু আহমেদ বলেন, গত রোববার শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ঝাউবাগান দিয়ে ২১ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের আটকের পর রাতেই পুশব্যাক করা হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, মহাপরিচালকের নির্দেশনা মতো সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তে অনুপ্রবেশসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।