ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নরসুন্দা লেকে মাদক সেবন-অশ্লীলতা বেড়েই চলছে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
নরসুন্দা লেকে মাদক সেবন-অশ্লীলতা বেড়েই চলছে
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের পাশের লেকপাড় এলাকাটি মাদকসেবীদের আখড়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মরণাপন্ন নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেষা লেকপাড়টি দিনদিন বেহায়াপনা, অশ্লীলতা আর মাদক সেবনের আখড়া হয়ে উঠেছে।

শহরের প্রবীণ মানুষেরা নিয়মিত লেকপাড় দিয়ে মর্নিং ওয়ার্কে বের হন। বতর্মানে তারা লেকপাড় দিয়ে চলাফেরা করতে ইতস্ততাবোধ করেন। শহরের অধিকাংশ মানুষেই কিছুটা এড়িয়ে চলেন লেকপাড়টি।

দিনদিন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের পাশের লেকপাড় এলাকাটি মাদকসেবীদের আখড়া, সন্ধ্যার পর তরুণ-তরুণীদের অবাধে মেলামেশা এবং ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যার পর এমনকি দিনের বেলায়ও মাদকসেবীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মুক্তমঞ্চ এবং ওয়াচ টাওয়ারের আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় বসে মাদক গ্রহণ করছেন। কোনো মেয়েকে পেলেই তারা অশ্লীলভাবে টিজিং করছে।

মাদকসেবী ছাড়াও অনেকে কথিত মেয়ে বান্ধবী নিয়ে এসে দিনে ও রাতের আঁধারে বসে অশ্লীলতায় মেতে উঠছে। মাদকসেবীদের গ্রুপ গুলোই আবার লেকপাড় এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলেই ছুরি, চাপাতি নিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করছে। যারা স্বেচ্ছায় দিতে না চায় তাদের ওপর হামলা এবং মারধর করে বলে জানা যায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকেই এরকমভাবে সর্বস্ব খুইয়েছেন বলেও জানা গেছে। 

উকিল পাড়া এলাকার আরমান চৌধুরী বলেন, লেকপাড়ে বোনকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম কয়েকদিন আগে। মাদকসেবীদের একটি গ্রুপ আমার বোনকে দেখে বাজে মন্তব্য করে। এতে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মারতে আসে তারা। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এরকম ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। 

কটিয়াদি উপজেলার করগাঁও ইউনিয়ন থেকে মুক্তমঞ্চ এবং ওয়াচ টাওয়ার দেখতে আসা মো. মিজান বলেন, গ্রাম থেকে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু ওয়াচ টাওয়ারের সামনের ব্রিজে আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকে মারধর করে আমার মোবাইল ফোন এবং টাকা নিয়ে গেছে।

নীলগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা ইমরান হোসেন বলেন, রমজান মাসে দুপুরে ঘুরতে এলে ওয়াচ টাওয়ারের সামনের ব্রিজে আমার মোবাইল আর টাকা রেখে দেয় কয়েকজন ছেলে। বাধা দিলে আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে মারধর করে।

শোলাকিয়া এলাকার সোহাগ বলেন, বন্ধুদের নিয়ে প্রায় সময় এই ওয়াচ টাওয়ার মুক্তমঞ্চ এলাকায় বিনোদনের জন্য যাই। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় মাদকসেবীরা মাদক গ্রহণ করছে। তা ছাড়া লেকপাড়ের পাশের ঝোপঝাড়ের আড়ালে তরুণ-তরুণীদের অশ্লীলতায় মেতে উঠতেও দেখা যায়। যার ফলে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একটু স্বস্তির জন্য যেতে সংকোচ বোধ করি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখানে নিয়মিত কিশোর কিশোরীদের অশ্লীল আড্ডা অশালীন মেলামেশা ও নেশা দ্রব্যের আখড়া বসে। প্রকাশ‍্য দিবালোকে গাঁজা সেবন করতেও এখানে দেখা যায় তরুণদের। হাঁটতে চলতে পাওয়া যায় ব‍্যবহারিত কনডম ও খোলা পেকেট। অথচ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ জায়গাটিই হতে পারতো মানুষের হেঁটে চলার বিকল্পতম রাস্তা। 

বার্ধক‍্যজনিত কারণে কিংবা বিভিন্ন বয়সের মানুষ যারা হাই প্রেসার, ব্লাড সুগার কিংবা অতিরিক্ত স্থূলতায় ভোগছেন কিংবা সকাল-বিকেল যারা নিয়মিত মর্নিং ওয়ার্ক করেন তাদের জগিংয়ের জন্য উত্তম জায়গা বলে বিবেচিত হতো নরসুন্দার লেকপাড়।

শহরের বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিলে হয়তো নরসুন্দা লেকপাড় অশ্লীলতা মুক্ত হবে, আবার ফিরবে এর শালিনতা। নরসুন্দা নদীর পাড়ের মুক্ত বাতাস নিতে পারবে সবাই। এতে উপকৃত হবে শহরে বসবাসরত হাজারো মানুষ।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, নরসুন্দা নদীর লেকপাড়ে যেন কেউ নেশা দ্রব্য সেবন করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। নিয়মিত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে আসছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!