ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যুগল সৌন্দর্য দেখতে পদ্মা পাড়ে দর্শনার্থীর ভিড়

ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ১২ এপ্রিল ২০২৪
যুগল সৌন্দর্য দেখতে পদ্মা পাড়ে দর্শনার্থীর ভিড়
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ঐতিহ্যবাহী যুগল সৌন্দর্য লালন শাহ্ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছে শত শত মানুষ। দর্শনার্থীরা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কাছ থেকে দেখতে পেয়ে খুবই খুশি। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পদ্মার দুই পাড়। কেউ ছবি তুলছেন কেউবা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

ঈদের টানা ছুটিতে দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে ভেড়ামারা-পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু এলাকায়। ঈদের দিনে সকাল থেকে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পাড়। বয়স প্রায় ১১৪ বছর হলেও এতটুকুও নষ্ট হয়নি দেশের বৃহত্তম হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সৌন্দর্য। তাই প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দুই ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন।

পাকশীর মানুষের চাহিদার অন্যতম কারণ, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী পাকশী পেপার মিল, ফুরফুরা শরীফ, ঈশ্বরদীর পুরাতন বিমানবন্দর, বিশাল অঞ্চল নিয়ে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়, বিবিসি বাজার, ইপিজেড ও রিসোর্টসহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনা। পদ্মার অপরূপ-মাধুর্যে ভরা পাকশীর জোড়া সেতু মনি পার্ক ও আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ হযরত সোলাইমান শাহ্ চিশতী (র.) মাজার দেখার জন্য পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন মানুষ।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত দর্শনার্থী ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। ঈদের সরকারি ছুটির কারণে মানুষের সমাগম অনেক বেড়েছে। যে যার মতো করে ছবি, সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে দেখা যায়।

দর্শনার্থী রংপুর থেকে আসা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে এসে একই সঙ্গে নতুন নির্মিত রূপপুর রেলওয়ে স্টেশন ও পুরাতন পাকশীর  নানন্দিক রেলস্টেশন ও ব্রিটিশ স্থাপনা পাকশী রেলের বিভাগীয় কার্যালয়, শতবর্ষী অসংখ্য গাছ দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ঘুরতে আসা বরিশালের নজরুল ইসলাম বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর পামানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জিকে সেচ প্রকল্প দেখলাম। সব মিলিয়ে জায়গাটি খুবই সুন্দর। এই জায়গাটি সরকারিভাবে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে দর্শনার্থীদের সমাগম আরো বাড়বে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দর্শনার্থীদের ভিড়এখানকার প্রকৃতির রূপ দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থী আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর ওপর লালরঙা হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ১১৪ বছর পার হলে ও এ ব্রিজের যৌবন কমেনি। সৌন্দর্য এক চিলতেও নষ্ট হয়নি। ব্রিজটি এসে দেখে অবাক হলাম।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে সমান্তরালভাবে দাঁড়িয়ে আছে লালন শাহ সেতু। এটি দেশের তৃতীয় দীর্ঘতম সড়ক সেতু। এ সেতুর কোল ঘেঁষেই নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুউচ্চ (৩০ তলার সমপরিমাণ উঁচু) চুল্লি ও উঁচু স্থাপনাগুলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু থেকে খুব সহজের অবলোকন করা যায়। পদ্মার পাদদেশে নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু মিলে এই এলাকা যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

১৯১৫ সালের ৪ মার্চ ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ সেতু উদ্বোধনকালে সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেলস্ আবেগভরে বলেছিলেন, যে সেতু নির্মাণ করে গেলাম উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ সেতু চিরযৌবনা হয়ে থাকবে। কথাটি যে কতখানি সত্য, তার প্রমাণ ১০৯ বছর আগে পদ্মা নদীর বুকে তৈরি করা এই ব্রিজটি শতবর্ষ পেরিয়ে ১১০ বছরে পদার্পণ করলেও সেতুর গায়ে বার্ধক্যের কোনো ছাপ পড়েনি। অনেক শাসক-শোষক ও প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে শতবর্ষ পেরিয়ে আজও বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।

মেয়াদোত্তীর্ণ এই ব্রিজটি ১১৪ বছরে পদার্পণ করলো। তবুও দিব্বি ব্রিজটি দাঁড়িয়ে আছে। সবকিছুই ঠিক থাকায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর দিয়ে নিয়মিত চলছে ট্রেন।

১১৪ বছর আগে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর বুকে তৈরি করা হয়েছিল এই ব্রিজটি। তখন পদ্মার ছিল ভরা যৌবন। পদ্মার যৌবন এখন শেষ হতে চলেছে। কিন্তু চিরযৌবনা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পদ্মার বুকে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সেতুবন্ধন তৈরি করেছে ঐতিহাসিক এই ব্রিজটি। পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলাকে সংযুক্তকারী এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ একসময়ে ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেলসেতু। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেলসেতু। এখনো এই ব্রিজটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ প্রতিদিনই পাকশী ও ভেড়ামারাতে আসেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!