ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত লালনশাহ ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা

ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৭ মার্চ ২০২৪
দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত লালনশাহ ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার লালন শাহ সেতু ও পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তার পাশে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখতে দুপাড়ে প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড় জমে। প্রাচীন এ ঐতিহ্য দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এখানে প্রতিদিন ছুটে আসছেন মানুষ। এখানকার প্রকৃতির রূপ দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা পাড়ে স্থানীয় চা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ জানান, পদ্মা নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলে তৈরি লালরঙা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এ ব্রিজের সৌন্দর্য এক চিলতেও নষ্ট হয়নি। তাইতো প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এ ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে সমান্তরালভাবে দাঁড়িয়ে আছে লালন শাহ সেতু। এটি দেশের তৃতীয় দীর্ঘতম সড়ক সেতু। এ সেতুর কোল ঘেঁষেই নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুউচ্চ (৩০ তলার সমপরিমাণ উঁচু) চুল্লি ও উঁচু স্থাপনাগুলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু থেকে খুব সহজের অবলোকন করা যায়। পদ্মার পাদদেশে নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু মিলে ওই এলাকা যেন দারুণ সৌন্দর্যের এলাকায় পরিণত হয়েছে।

Advertisement

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শত শত দর্শনার্থী ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। যে যার মতো করে ছবি, সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে শেয়ার করছেন।

সেখানে ঘুরতে আসা দিনাজপুর থেকে আসা নবীর উদ্দীন নামের ওই যুবক জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প সব মিলিয়ে জায়গাটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয় এখানে। জায়গাটি পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে দর্শনার্থীদের সমাগম আরো বাড়বে।

সেলিম নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে এসে একই সঙ্গে পাকশীর নানন্দিক রেল স্টেশন, লালন শাহ সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছি। একই সঙ্গে ব্রিটিশ স্থাপনা পাকশী রেলের বিভাগীয় কার্যালয়, শতবর্ষী অসংখ্য গাছ ও পদ্মা নদীর ঢেউ দর্শনার্থীদের হৃদয়কে ভরিয়ে দিয়েছে।

খুলনা থেকে আসা শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্রিটিশ নানন্দিক স্থাপনার নিদর্শন রয়েছে পুরো পাকশী জুড়ে। পদ্মা নদী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দফতর, রেল স্টেশন, ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী শত শত গাছ সব মিলিয়ে পাকশী সৌন্দর্যের তীর্থস্থান বলা যেতে পারে। এ এলাকা পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে এখানে আরো দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। দর্শনার্থীদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দুটি টয়লেট, ডাস্টবিন, সোলার লাইট ও নলকূপের ব্যবস্থা করা হবে।

ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউপি চেয়ারম্যান রওশনআরা বলেন, আগে মানুষ শুধু হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন। ব্রিজের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও লালন শাহ সেতু এখানকার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুষ্টিয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!