ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দিনে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন বগুড়া, অতিষ্ঠ জনজীবন

আলমগীর হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৪:২১, ১০ এপ্রিল ২০২৪
দিনে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন বগুড়া, অতিষ্ঠ জনজীবন
ফাইল ফটো

উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়ায় গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। এতে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে সেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন। এ ছাড়া চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ। 

মিটারের অগ্রীম টাকা লোড দিয়েও গরমে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না নেসকোর গ্রাহকরা। কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেয়েও প্রতিমাসে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের টাকা। এছাড়া বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারছে না, অপরদিকে অফিস আদালতের কাজেও চরম বিঘ্ন ঘটছে। ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন কাজ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। 

এদিকে চাহিদামত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও রয়েছেন অস্বস্থিতে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলোকিত করতে জেনারেটার চালাতে ব্যয় বাড়ছে। এছাড়াও কারখানাগুলোতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে ব্যবসায় মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গরমে শ্রমিকরা বেশি সময় কাজও করতে পারছে না। বিদ্যুতের এই ঘনঘন লেডশেডিং এ জনজীবন অতিষ্ঠ হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের নেই কোনো কৈফিয়ত। মাস শেষ না হতেই তারা গ্রাহকদের ধরে দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিলের কপি।

Advertisement

বগুড়া শহরের বাদুড়তলা শাহ আলম মুক্তার জানান, গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবন যাপন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। রোজার মধ্যে তারাাবর নামাজের সময় এবং সেহরি খাওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়।

শহরের কাটনারপাড়ার বাসিন্দা ইনছান আলী শেখ জানান, মিটারের অগ্রীম টাকা লোড দিয়েও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে।

কাহালু উপজেলার গ্রাহক আমিনুল ইসলাম জানান, দিন রাতে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ যাতায়াত করে। গরমে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও সাংসারিক কাজ কর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে।

বগুড়া মেরিনা মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আল মমিন খান জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝে মাঝেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। তখন জেনারেটর চালু করতে হচ্ছে, তাছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা করতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং কারণে দোকানে বেচাকেনা কমে গেছে। কিন্তু দোকান নির্বাহ ব্যয় বেড়েছে। এমন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

নেসকোর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া আবাসিক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ে এ যেতে হচ্ছে। দৈনিক আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ২২-২৩ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১০-১২ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে ফিডার সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি।

নেসকোর বগুড়া-১ নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মুন্নাফ জানান, বগুড়া শহরের চাহিদার তুলনায় ২০-৩০ ভাগ সরবরাহ কম থাকায় গত ৩-৪দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন হয়েছে। তবে সোমবার (৮ এপ্রিল) অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। খরা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাসা বাড়িতে এসি চালু হয়েছে সেজন্য বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানান, বগুড়ায় প্রতিদিন বিদ্যুতের যে চাহিদা আছে তার ৭৮ থেকে ৮৫ ভাগ সরবরাহ থাকে। সেচ পাম্প ভোরবেলা করে চালু করলে পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহক আমাদের অভিযোগ করেননি। এই মাস পরেই সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!