সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক শহরের কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কমলপুর মধ্যপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকার মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুইপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করেছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
.png)
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল রাতে লোকাল বাসস্ট্যান্ড ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের বিপরীত পাশে মানিক মিয়ার হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী কমলপুর মধ্যপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে আজিবর ও মধ্যপাড়ার রউফ মিয়ার ছেলে ওমর মিয়ার ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুইজনকে মিলিয়ে দেন দোকান মালিক মানিক মিয়া। ঘটনার আধাঘণ্টা পর দুইপক্ষ দা, বল্লম, লাঠিসোঠা, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার একপর্যায়ে কমলপুর মধ্যপাড়ার সংঘর্ষকারীরা পূর্বপাড়ার ১০ দোকান ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ফেরাতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল মিয়াসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
কমলপুর মধ্যপাড়ার আইনুল মিয়া জানান, ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্টের মতো সামান্য বিষয় নিয়ে কিছু কিশোর ছেলেরা ঝগড়ায় মেতেছে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। সংঘর্ষকারীরা অনেকগুলো দোকানের স্যাটার কুপিয়ে ভেঙে দিয়েছে।
পূর্বপাড়া এলাকার কাজী মামুন বলেন, আমি একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি দুই পক্ষের কিছু বখাটে যুবক দা বল্লম লাঠিসোঠা নিয়ে ঝগড়া করছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় মধ্য পাড়ার কিছু বখাটে যুবক দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। আমি চেষ্টা করেছি ফিরিয়ে দিতে কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার রিপন মিয়া ও বাচ্চু মিয়া বলেন, আমাদের কী অপরাধ। আমরা মসজিদে তারবিহ নামাজে গিয়েছিলাম দোকান বন্ধ করে। এসে দেখি দোকানের স্যাটারগুলো কুপিয়ে ভেঙে দিয়েছে। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমরা এদের বিচার চাই।
৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঝগড়া করেছে কিছু কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেরা। তারা অনেকগুলো দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।