ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নওগাঁয় কমেছে পেঁয়াজের দাম, বেড়েছে রসুন

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৪, ৩০ মার্চ ২০২৪
নওগাঁয় কমেছে পেঁয়াজের দাম, বেড়েছে রসুন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁয় কমেছে মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় পাইকারিতে গত তিনদিনে কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমেছে। পেঁয়াজের দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। আমদানির খবরে পেঁয়াজের দামের দরপতন হচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে প্রতিকেজিতে রসুনের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছরে পেঁয়াজের আবাদ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬৩ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন। গত বছর ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি থেকে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ৫৭ হাজার ২৫৭ মেট্রিক টন। এ বছর রসুনের আবাদের পরিমাণ ৭৮০ হেক্টর ধরা হয়। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন। এছাড়া গত বছর ৮২০ হেক্টর জমি থেকে রসুনের উৎপাদন হয়েছিল ৭ হাজার ৬২৬ মেট্রিক টন।

নওগাঁ পৌর পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিনদিনে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৩৫-৪০ টাকা। আগে আগে ছিল ৫০-৫৬ টাকা। অপরদিকে ১৫ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা। যা আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। 

Advertisement

নওগাঁয় কমেছে পেঁয়াজের দাম

চাষিদের উৎপাদিত দেশি পেঁয়াজে হাট-বাজার সয়লাব। এরই মধ্যে আর কয়েকদিনের মধ্যে দেশের কয়েকটি বন্দর দিয়ে আমদানিতকৃত পেঁয়াজ আসার অপেক্ষা। এই সংবাদে কমেছে পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক কম দামে এবং লোকসান করে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পেঁয়াজ আমদানি হলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে চাষিদের।

পেঁয়াজ চাষি আফাজ বলেন, গত কয়েকদিন আগেও ২ হাজার (৫০ টাকা কেজি) টাকা মণ হিসেবে পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলাম। সেই পেঁয়াজ এখন ৩৬-৩৮ টাকা কেজি হিসেবে দাম বলছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে ১০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসছিলাম। ভালো দাম না পাওয়ায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে যেতে হচ্ছে।

আরেক চাষি মুক্তার হোসেন বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এ বছর পেঁয়াজের আবাদে বিঘাপ্রতি ১৬-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়ায় অনুকূলে না থাকায় ফলন কম হয়েছে। বাজারে দাম কম শুনছি। আবার ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসার কথা শুনছি। আমরা কৃষকরা আসলে মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও কৃষকরা সবসময় লোকসানে মধ্যে থাকে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া পাশের জেলা উত্তরের বড় মোকাম পাবনা ও নাটোর জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নিয়ে আসছে। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। বাজারে ক্রেতা সংকট হওয়ায় বেচাকেনা অনেকেটা কমেছে। তবে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কমায় লোকসান করে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওগাঁ পৌর পাইকারি বাজারে মেসার্স লক্ষ্মী ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী সুকুমার বলেন, গত ২-৩ দিন থেকে পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতিকেজিতে ৫-৭ টাকা লোকসান করে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। অপরদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে। আগামীতে পেঁয়াজের দাম আরো কমতে পারে। এছাড়া রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!