সড়ক ও জনপথ (সওজ) মানিকগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর ১৯৭৩ সালে ৪৯৩ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় এই সেতুর সংস্কার কাজ করা হয়েছে। সেতুর বিভিন্ন অংশের সংযোগস্থলে এক্সপানশন জয়েন্টের স্টিলের পাতগুলো বেঁকে গত ১৩ মার্চ থেকে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। সেতুটিতে মোট ১২টি এক্সপানশন জয়েন্ট রয়েছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুটি লেনের উত্তর পাশের লেনে ১২টি এক্সপানশন জয়েন্টের কাজ করছেন শ্রমিকরা। আর দক্ষিণ পাশের দুটির কাজ করছেন শ্রমিকরা। সেতুর একপাশ বন্ধ থাকায় উভয় প্রান্তেই যানবাহনগুলোকে দাঁড় করে রাখা হয়েছে। একপ্রান্তের যানবাহন পাড় হলে অন্যপ্রান্তের যানবাহনগুলোকে পাড় করা হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জগামী ও ঢাকাগামী যানবাহনগুলো ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
.png)
_1711268770.jpg)
পাটুরিয়াগামী বাসের চালক আনোয়ার রহমান জানান, এখন ঈদের মৌসুম। প্রতি ট্রিপেই আমাদের অনেক সময় সেতু পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোজার মাস হওয়ায় যাত্রীরাও বেশ বিরক্ত হয়ে যান। এই কাজটা হয় ঈদের পরে কিংবা আরো একমাস আগে শুরু করলে আমাদের ভালো হতো।
বেসরকারি ব্যাংকের সাভার শাখায় চাকরি করেন ফিরোজ হোসেন। মানিকগঞ্জ থেকেই প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে আটকে অপেক্ষা করছেন সেতু পাড় হওয়ার জন্য। তিনি জানান, আগে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় হাতে নিয়ে বের হলেই অফিসে পৌঁছাতে পারতাম। এখন দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হতে হয়। দ্রুত কাজ শেষ হলে সবার জন্য ভালো।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এপিক ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশনের শ্রমিকদের সুপারভাইজার মো. জনি বলেন, সেতুটির উত্তর পাশের ১২টি এক্সপানশন জয়েন্টে স্টিলের পাত বসানো সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ পাশের ১২টির মধ্যে দুটি স্টিলের পাত বসানোর কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই এই দুটির সংযোগস্থলগুলোতে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হবে। ঢালাইটা শুকানোর জন্য দুদিন একপাশ বন্ধ রাখা হবে।
সওজের মানিকগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ঈদে এই সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। সেতুটি পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে এর সংস্কারকাজ প্রয়োজন হয়। আজই এক্সপানশন জয়েন্টের কাজ শেষ হবে। দুইদিন পর থেকে দুই লেনে যানবাহন চলাচল করবে।