সবশেষ বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম পানখালি পাহাড়ের পাশের সবজি ক্ষেত থেকে পাঁচজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা।
চলতি মাসের প্রথম থেকে শনিবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত শিশুসহ মোট ২০ জন অপরণের শিকার হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই মুক্তিপণে বাড়ি ফিরেছেন।
.png)
জানা গেছে, অপহৃতদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া, কাঠুরিয়া, জেলে, কৃষকসহ প্রবাসীও ছিলেন। অপহরণের পর দাবিকৃত মুক্তিপণ দিতে না পেরে খুন হয়েছেন পাঁচজন। দিনের পর দিন অপহরণ বাণিজ্য বেড়ে চলায় এ অঞ্চলের মানুষ অপহরণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বাহারছড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ আলম জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে মারিশবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল আলিম মায়ের সঙ্গে পানের বরজে কাজ করতে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ৪-৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে তাকে অপহরণ করে। এ ঘটনার পাঁচদিন পরে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ফেরত আনে তার পরিবার।
তিনি আরো বলেন, এর আগে বাহারছড়ার অটোরিকশাচালক মাহমুদুল করিম ও হ্নীলার ইজিবাইক চালক মুহাম্মদ হোসেন মুক্তিপণের টাকা দিতে না পেরে খুন হয়েছিলেন। পরে শামলাপুর ঢালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর কক্সবাজারের ইউসুফ, জমির হোসেন ও ইমরান নামের তিন বন্ধু বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ায় বেড়াতে গেলে তারাও অপহরণের শিকার হন। পরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে না পারায় তাদেরকেও হত্যা করে অপহরণকারীরা। এ পর্যন্ত বাহারছড়া থেকে ৭০-৮০ জনেরও বেশি অপহরণের কবলে পড়ে মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।
হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের বিভিন্ন পেশার দেড় শতাধিক মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তারা প্রত্যেকে মুক্তিপণের মাধ্যমে ছাড়া পেয়েছেন। দিনের পর দিন যেভাবে অপহরণের ঘটনার বাড়ছে এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীরা বাড়ি ফিরতেও ভয় পান।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার অপহৃত পাঁচজনকে শুক্রবারও উদ্ধার করা যায়নি। অপহরণকারীদের নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, এরই মধ্যে অনেককে উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাহাড়ি বন্ধুর পথ হওয়ায় সহজে মুভ করাও কষ্টের। এরপরও অপহরণ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।