বুধবার (২০ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা দায়রা জজ আদালতে বিচারক মোসাম্মৎ জাকিয়া পারভীন এ রায় দেন। রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আকলিমা খাতুন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার হাটবাড়িয়রা গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে। আকলিমার স্বামীর নাম হযরত আলী।
.png)
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুর বাবার স্ত্রী দুইজন। প্রথম স্ত্রীর নাম রেনু পারভীন। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম আকলিমা আক্তার। দুই স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিলো। প্রথম স্ত্রীর সন্তান রিপন শেখ (৪)।
২০১০ সালের ১০ আগস্ট সকালে হযরত আলী গরু কেনার জন্য পাংশা উপজেলা চর শাহমীরপুর এলাকায় যান। রিপনের মা (বাদীর প্রথম স্ত্রী রেনু পারভীন) গরুর ঘাস আনার জন্য মাঠে যান। বাড়িতে হযরতের দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও তার দুই সন্তান ছিলো।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভু্ক্তভোগী রিপনকে ঘরে থাকা কীটনাশক বোতলের ছিপি দিয়ে তাকে খাওয়ান অভিযুক্ত আকলিমা। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে ও চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। ফলে পাড়ার অনেক লোকজন তার বাড়িতে জড়ো হন।
এ ঘটনার আধাঘণ্টা পর রিপনের মা রেনু পারভীন বাড়িতে এসে বাচ্চাকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। রিপনকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাস করেন। পরে রিপনের মুখ হতে বিষের গন্ধ বের হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন বিষক্রিয়ার কারণে সে কান্নাকাটি করছে। তখন শিশুটিকে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
কিন্তু শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন বিকেল ৪টার দিকে মারা যায়। এ ঘটনার পর আকলিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিষ খাওয়ানোর কথা স্বীকার করেন। এরপর পাংশা থানায় মামলা হয়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) উজির আলী শেখ বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন মামলার একমাত্র আসামি আকলিমা। বুধবার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তি এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।