দেশের প্রতিটা জেলা এবং অঞ্চলেরই আছে কিছু নিজস্ব ঐতিহ্য। সেইসব ঐতিহ্য অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের তৈরি হয় ইফতার।
চলুন দেখে আসি দেশের বিভিন্ন জায়গার আজকের ইফতার আয়োজন-
.png)
বরিশাল
বরিশাল নগরীর প্রতিটি অলিগলি থেকে শুরু করে হাট-বাজারে জমে উঠছে ইফতার আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৪টার পর থেকেই নামিদামি ইফতার পণ্যের দোকানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের ইফতারের দোকানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।
নগরীর সদর রোড,বাংলা বাজার, লঞ্চঘাট, বাজার রোড, বগুরা রোড, বটতলা, রুপাতলী, নতুন বাজার, চৌমাথা, নথুল্লাবাসসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হতে দেখা গেছে ইফতার সামগ্রী। নামিদামি রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলো ইফতার বিক্রির জন্য অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
রেস্তোরাঁর সামনে বাহারি নকশায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে ইফতার বিক্রির জন্য অস্থায়ীভাবে আলাদা স্টল। যেখানে ছোলা, বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ডিম চপ, দই বড়া, ডাবলির ঘুঘনি, মিষ্টি, শাহী হালিম, গরু-মুরগি-খাসির হালিম, কাবাব, সবজি পাকোড়া, মাংসের চপের পাশাপাশি অনেকে তাদের নিজস্ব বিশেষ আয়োজনসহ মুখরোচক নানা ইফতার পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
চট্টগ্রাম
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জমে উঠেছে রমজানের প্রথম দিনের ইফতারের বাজার। অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ফুটপাত, সব জায়গায় বাহারি ইফতারের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।
তবে, রোজার প্রথম দিন সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে, হালিমের হাঁড়ির সামনে। রীতিমতো হুড়োহুড়ি করে নগরের জিইসি মোড় এলাকার হান্ডি রেস্টুরেন্ট থেকে হালিম কিনছেন ক্রেতারা।
হালিমের পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দের হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি, মেজবানির মাংস, শ্রীলঙ্কান রোল, শাম্মি কাবাব, বাট্টি পরোটা, চিকেন কাটলেট, জিরা পানি, দই-জিরা পানি, জুস, হালিম আখনি, ল্যাম্ব শর্মা, চিকেন শর্মা, শ্রিম্প পাকোড়া, পুরান ঢাকার শাটল কাবাব, মাটন লেগরোস্টসহ নানা মুখরোচক ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে দেদার।
হান্ডি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মাজহারুল হক বলেন, ‘প্রতি রমজানে আমাদের দৈনিক ১০০ কেজির বেশি হালিম বিক্রি হয়। হালিমের মধ্যে চিকেন, বিফ ও মাটন তিনটাই আছে। তিনটার দামও এক, প্রতি কেজি ৬৮০ টাকা।’
রাজশাহী
ইফতারসামগ্রীর জন্য পদ্মাপাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সুনাম দেশজুড়েই। তবে এবার পবিত্র রমজানের প্রথম দিন রাজশাহীতে গেল কয়েক বছরের তুলনায় ইফতারসামগ্রীর দাম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গত বছরের চেয়ে এবার ইফতারি কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ টাকা।
ছোলা, বুট থেকে শুরু করে ইফতারির প্রতিটি সামগ্রীর দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে। আবার যেসব সামগ্রীর দাম বাড়েনি, সেসব সামগ্রীর আকার ছোট হয়ে গেছে। তারপরও রমজানের প্রথম দিনই ইফতারির দোকানগুলো ছিল ক্রেতা সমাগমে পূর্ণ।
মহানগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার গলি পথেও ঐতিহ্যবাহী ইফতারসামগ্রী নিয়ে বসেছেন মৌসুমি দোকানিরা। মহানগরীর সাহেববাজার, আলুপট্টি, কুমারপাড়া, ভদ্রা, সোনাদিঘির মোড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, লক্ষ্মীপুর, কাদিরগঞ্জ, বিন্দুরমোড়, নিউমার্কেট, গণকাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পসরা সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ইফতার। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দোকানগুলোতে রকমারি ইফতার তৈরি হয়েছে এ বছরও।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কালোজিরা মিশ্রিত জিলাপির বেশ কদর। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। আব্দুল হাকিম নামে এক ক্রেতা বলেন, জিলাপির মান ঠিকই আছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় দাম বেশি। গত বছর এক কেজি জিলাপি ছিল ৩০০ টাকা। আর এবার কেজিপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি ইফতারের দাম বাড়ানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি
প্রথম দিনেই জমে উঠেছে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির ইফতার বাজার। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতার নিয়ে রোজাদারদের থাকে নানা ভাবনা। বেলা যত গড়িয়েছে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে ইফতারের বাজার। রোজাদারদের কথা বিবেচনা মাথায় রেখে খাগাড়ছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে নানা পদের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, পানছড়ির বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিকেল ৩টা বাজতেই রকমারি ইফতারি সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি এসব ইফতারির স্বাদ নিতে দুপুরের পর থেকে ভোজনবিলাসীরা ছুটে এসেছেন। এ সময় বিভিন্ন দোকানের সামনে দীর্ঘ জটলা দেখা গেছে।
বিকেল ৩টা বাজতেই বিভিন্ন বাজারে রাস্তার পাশে রকমারি ইফতারের পসরা সাজানো শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। ইফতার মেন্যুর মধ্যে ছিল ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মরিচা, আলুর চপ, হালিম, বিরিয়ানি ও জিলাপিসহ মজাদার খাবার।
ময়মনসিংহ
বিকেল গড়াতেই ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, সিকে ঘোষ রোড, চরপাড়া, ব্রিজ মোড়সহ প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই ইফতার বেচাকেনার ধুম পড়েছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচলিত ইফতারির পাশাপাশি নানা স্বাদের বাহারি আয়োজন সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। গতবারের মতো এবারও নগরীর সারিন্দা, নবাবী, ধানসিঁড়ি, রোমথ্রিসহ নামি রেস্টুরেন্টগুলোতে শামী কাবাব, জালি কাবাব, চিকেন ছাছলিক, মাটন চাপসহ হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবুও এসব ইফতারি কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের জটলাও।
নবাবী রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, বেগুনি ও পিয়াজু প্রতি পিছ ১০ টাকা, আলুর চপ ও পাকোড়া ১৫ টাকা, চিকেন সাসলিক ১২০ টাকা, টিক্কা কাবাব, ৬০, নারগিস কাবাব ৭০, রাশিয়ান ফ্রাই ১৭০, চিকেন চাপ ১৭০, আস্ত মুরগির রোস্ট ৫২০, পাতিল ভেদে হালিম ১৫০ থেকে ১০০০ টাকা, বোরহানি প্রতি লিটার ২৪০ টাকাসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
খুলনা
রমজান মাস ঘিরে খুলনায় ইফতার আয়োজন চলছে সর্বত্রই। ইফতার আয়োজনের কমতি নেই অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতেও। ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার নিয়ে বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করেছে তারা। পাশাপাশি ইফতার পার্টির জন্য বিভিন্ন হল ভাড়ায়ও প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেউ কেউ।
প্রথম রমজানে মহানগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি সব খাবারের সন্ধান করেছেন ভোজনরসিকরা। সড়কের পাশে নানা পদের ইফতার সামগ্রীর রমরমা বাজার। আর এখানকার ইফতার চেখে দেখতে নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসছেন। উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্য ও নিম্নবিত্ত সবারই ভিড় এখানে।
ইফতার বিক্রেতা শিমুল বলেন, প্রতি বছরের মতো রমজানে এবারও ইফতারে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ইফতার তৈরির পণ্যের দাম অনেক বেশি হলেও ইফতারির খাবারের দাম তেমন একটা বাড়ানো হয়নি।
মহানগরের পাইওনিয়র মহিলা কলেজের সামনে, ডাকবাংলো মোড়, সোনালী ব্যাংক চত্বর, ফেরিঘাট মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ি মোড়, পশ্চিম রূপসা ঘাট, শান্তিধাম মোড়, বৈকালী মোড়, বয়রা মোড়, নিরালা, গল্লামারী মোড়সহ প্রতিটি ব্যস্ততম সড়কের দুই পাশেই ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।