মানিকগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীতে উৎপাদিত পণ্য ছাড়াও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, থ্রি-পিস, মাটির তৈরি শো-পিস, তৈজসপত্র ও বাঁশ-বেত ও পাটের তৈরি পণ্যসহ পিঠা-পুলি। জেলায় প্রথমবারের মতো চলা এ মেলায় পণ্য প্রদর্শনী ছাড়াও ক্রেতা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আর্কষণের জন্য প্রতিদিন আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বিক্রেতাদের পণ্যে ছাড় থাকায় নিজেদের পছন্দমতো জিনিসও ক্রয় করেছেন ক্রেতারা।
মানিকগঞ্জ বিসিকে অবস্থিত একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ডিটারজেন, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, মশার কয়েল, টয়লেট ক্লিনার বিক্রি করছেন। তাদের বিক্রয় প্রতিনিধি হোসাইন জানান, খুব ভালো বিক্রি হয়েছে। সাধারণত আমাদের পণ্যগুলো বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। মেলায় আমরা ছাড় ও দুটির সঙ্গে একটি ফ্রি বা একটির সঙ্গে একটি ফ্রি অফার দিয়ে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এই মেলা হওয়ার সবচেয়ে বড় একটি উপকার হলো, আমাদের প্রোডাক্টের ব্যাপক ব্র্যান্ডিং হয়েছে।
.png)
ডিফারেন্ট বিউটি শপের কর্ণধার লাবনী আক্তার জানান, আমার অনলাইন শপ আছে। সেখানে আমি থ্রি-পিস, শাড়িসহ বিভিন্ন আইটেমের ড্রেস বিক্রি করি। আমি জেলা বিসিকের সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত। তাই জেলায় প্রথমবারের মতো হওয়া বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিই। মেলায় প্রথম কয়েকদিন ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। শেষের তিন-চারদিন ২০-৩০ হাজার টাকাও বিক্রি করেছি।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া এলাকার বুবলি আনছারি কাজ করেন অর্গানিক খাদ্যসামগ্রী নিয়ে। তিনি মেলায় স্বদেশী নামের স্টলে নিজের প্রস্তুতকৃত রান্নার মসলা, আচার, পিঠা-পুলি বিক্রি করেছেন। মেলায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজের ভাবনার চেয়ে বেশ ভালো পেয়েছি। আর এ মেলায় এসে আমার বেশ ভালো পরিচিতি হয়েছে। যার আউটপুট আমি অনলাইনে বেশ ভালোভাবেই পাবো।
মেলায় আসা হিমু চৌধুরী জানান, নিজের জন্য ৭শ’ টাকা দিয়ে একটি শাড়ি কিনেছি। যেটা দোকান থেকে কিনলে হাজার টাকার কমে কেনা যেত না। আর বাচ্চার জন্য একটি ফ্রক নিলাম, সেটাও ৩২০ টাকা পড়েছে।
রাশেদুর রহমান জানান, মানিকগঞ্জে প্রথম উদ্যোক্তা মেলা হচ্ছে। উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি পণ্যগুলো নিয়ে এসেছেন। মেলায় নারী উদ্যোক্তার সংখ্যাই বেশি। পাটের তৈরি ম্যাট ও বেতের তৈরি দুটি ঝুড়ি কিনেছি।
মানিকগঞ্জ বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো আমরা মানিকগঞ্জে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করি। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার-প্রসার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করা। প্রতিদিনই অনেক মানুষ মেলা এসেছেন। তাদের চাহিদামতো পণ্য সামগ্রীও কিনেছেন। ১০ দিনের মেলায় প্রায় কোটি টাকা পণ্য বিক্রি হয়েছে। আশা করছি, প্রতিবছর আমরা এই মেলা চলমান রাখবো।