পাওনা টাকা না দেওয়ায় ঘের থেকে মাছ লুটের অভিযোগ
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের মদারদিয়া গ্রামে নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যবসায়ীর মাছের ঘের থেকে মাছ লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ রামপাল রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ জানান, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদারের কাছ থেকে বছর চুক্তি হিসেবে টাকায় মাদারদিয়া গ্রামের সাড়ে ৩ বিঘার একটি ঘের লিজ নেয়া হয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমি ওই ঘেরটিতে চিংড়িসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করে আসছি। টাকার হিসাবে গত দুই বছরে সালাম হাওলাদাকে আমি ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেছি। তারপরও তিনি আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকে সালাম হাওলাদারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে আমি কিছুটা সমস্যায় থাকায় নির্ধারিত সময়ে আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে পারিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সালাম হাওলাদার গত ৩ তারিখ আমার ঘেরে প্রবেশ করে মেশিন বসিয়ে পানি তুলতে থাকেন এবং জাল দিয়ে ঘেরে থাকা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করেন। খবর পেয়ে আমি ঘেরের কাছে গেলে আমাকে নানা প্রকার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, নূর মোহাম্মদ বছর চুক্তি হিসেবে টাকা দিয়ে আমার কাছ থেকে ঘেরটি নেন। কিন্তু গত বছর তিনি আমাকে একটি টাকাও দেননি। বিষয়টি নিয়ে সালিশ-বৈঠক হলে আমাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নূর মোহাম্মদ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও আমাকে টাকা দেননি। তাই বাধ্য হয়ে আমি ঘেরে মেশিন বসাই। কিন্তু মাছ লুটে নেয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। ঘেরের মাছ ধরার জন্য আমি মেশিন বসালেও এখন পর্যন্ত একটি মাছও ধরা হয়টি। আমার ইচ্ছা ছিল, মাছ ধরে আমার টাকা বুঝে নিয়ে বাকি টাকা তাকে ফেরত দেওয়ার। এখানে মাছ লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রামপাল থানার ওসি সোমেন দাস বলেন, ঘের থেকে মাছ লুটের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।