ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ড্রাম চুরির অভিযোগ

যুবককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৩৯, ৬ মার্চ ২০২৪
যুবককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
নির্যাতনের শিকার আহত সিফাত

একটি ড্রাম চুরির অপবাদে সিফাত (২২) নামে এক যুবককে মাহফিল থেকে তুলে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

সিফাত কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে। 

এর আগে, রোববার (৩ মার্চ) পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা এলাকায় ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার (৪ মার্চ) মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সিফাত যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। সঙ্গে তার মা কহিনুর বেগম এবং ভাবি নাজমা এ ঘটনার আতঙ্কিত। তারা এ ব্যাপারে বিচার দাবি করেছেন। 

তারা জানান, রোববার (৩ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সিফাতকে মাহফিল থেকে তুলে এনে হাত-পা বেঁধে তার বিশেষ অঙ্গে পদাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পিটুনি দেয়। এ সময় শরীরে টর্চার চালিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেন বলে জানান সিফাত।

অসুস্থ সিফাত বলেন, ওই রাতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ওরা আমাকে টক জাতীয় কিছু খাওয়ায়। আমাকে ওরা মেরেই ফেলতো। তবে কী কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খুন করেননি তা বুঝতে পারছি না। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন।

সিফাত আরো বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের সলেমান গাজী রহমান গাজী, রহিম মোল্লা, রুবেল,  বেল্লাল ও শুভ‌।

কালমেঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গোলাম নাসির বলেন, এমন বর্বরোচিত একটা ঘটনায় আমি হতবাক হয়েছি। যে ছেলেটিকে মারা হয়েছে; সে ছেলেটি চোর না। সে একটা সহজ-সরল ছেলে। অবশ্যই বিচার হতে হবে। আগে ছেলেটি সুস্থ হোক। 

সিফাতের মা কহিনুর বেগম বলেন, আমার ভাই পুলিশকে জানিয়েছে। আগে ছেলের চিকিৎসা তারপরে মামলা করতে চাই। আমি আমার ছেলের ওপরে নির্যাতনের বিচার চাই।

পাথরঘাটা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এমন ঘটনা আমরা জেনে হাসপাতালে গিয়ে আহত সিফাতের জবানবন্দি গ্রহণ করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!