তবে হাসপাতালে ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় ওই গৃহবধূর নরমাল ডেলিভারি করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর গ্রামের মো. জুয়েল ঘরামীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সাহেবরামপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কোনো কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় বুধবার গভীর রাতে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতাকর্মী উম্মে রহিমা বিজলী ও বিজলীর স্বামী নৈশ্য প্রহরী আরিফুর রহমান মিলে ওই গৃহবধূর নরমাল ডেলিভারি করেন। এতে ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
.png)
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জুয়েল ঘরামী জানান, আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে কোনো ডাত্তার না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী উম্মে রহিমা বিজলী ও বিজলীর স্বামী নৈশ্য প্রহরী আরিফুর রহমান মিলে নরমাল ডেলিভারি করেন। ডাক্তার থাকলে আমার স্ত্রী মারা যেত না। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী উম্মে রহিমা বিজলী ও বিজলীর স্বামী নৈশ্য প্রহরী আরিফুর রহমান জানান, এখানে ডাক্তার না থাকায় আমরা ওই গৃহবধূর নরমাল ডেলিভারি করেছি। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শিকা নুপুর বেগম না থাকায় ডেলিভারি করিয়েছেন বলে দাবি করেন ওই নৈশ্য প্রহরী।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শিকা নুপুর বেগম বলেন, আমার সপ্তাহে দুইদিন সেখানে ডিউটি রয়েছে। তাই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আকিব বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশ্য প্রহরীর ডেলিভারি করার বিষয়টি জেনেছি। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।