এ ঘটনায় দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ বলছে, আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে ইউরোপে নৌকায় পাড়ি দেওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে মারা যান ৮ বাংলাদেশি। মঙ্গলবার এদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবরে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
.png)
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা যায়, নৌকায় চালকসহ ছিলেন ৫৩ জন। এদের মধ্যে ৮ বাংলাদেশি মারা গেছেন। যাদের পাঁচজনের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরে।
নিহতরা হলেন- রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী, একই উপজেলার পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস, ইউসুফ আলীর ছেলে মামুন শেখ, কাজি মিজানুরের ছেলে কাজি সজীব ও কায়সার।
স্বজনরা জানান, গত ১৪ জানুয়ারি রাজৈর উপজেলার বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ব্যাংক ঋণ ও সুদে ঋণ নিয়ে দালালদের দেওয়া টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বজনরা।
একাধিক স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের বাদশা কাজির ছেলে মোশারফ কাজি ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩-১৫ লাখ টাকা নেন। পরে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠালে ঘটে এ দুর্ঘটনা। এ কাজে সহযোগিতা করেন মোশারফের ছেলে যুবরাজ কাজি। এমন ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহতদের পরিবার মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।