ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চরে পণ্য পরিবহনে জনপ্রিয় ঘোড়ার গাড়ি

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর
প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চরে পণ্য পরিবহনে জনপ্রিয় ঘোড়ার গাড়ি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহনে ভাগ্য খুলেছে মালিকদের। ফলে দিনদিন ঘোড়াগাড়িতে মালামাল পরিবহনের চাহিদা বেড়েই চলেছে। বাড়ছে ঘোড়াগাড়ির সংখ্যাও। কালের বিবর্তনে রাজকীয় বাহন ঘোড়ার গাড়ির রূপ বদলালেও প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি এ বাহনটির। দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলের পাশাপাশি সরিষাবাড়ির যমুনার চরে টগবগিয়ে এখনো ছুটে চলে ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়িকে একমাত্র বাহনও বলা হয়।

জানা যায়, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলার সব জায়গায় বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করে আসছে ঘোড়ার গাড়ি। সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা, ঘুইঞ্চা, কুপারপাড়া, চন্দনপুর, কাজলগাও, বাড়ইকান্দি, ডাকাতিয়াবান্ধা, চরদামোদরপুর, আদ্রা, ছাতারিয়া, জামিরা, চরনান্দিনা, ধরাবর্ষা, মানিকপটল, টাকুরিয়া, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ি, গুয়াখাড়া, গুজাবাড়ি, সিন্দুরআটা, রঘুনাথপুর, ছালাল, মালিপাড়া, ব্রাহ্মণজানির বিস্তীর্ণ যমুনা তীরবর্তী এলাকায় শুকনো মৌসুমে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র ঘোড়ার গাড়িই মালামাল পরিবহনে উত্তম একটি যোগাযোগ মাধ্যম।

সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইঞ্চা চরের কৃষক বিপ্লব মিয়া জানান, যমুনার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের কাজ শুরু হয়। চরের বেলে-দোআঁশ মাটিতে ফসল ফলানোর স্বপ্ন নিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। চরাঞ্চলে সাধারণত বাদাম, ভুট্টা, মসুর কলাই, মিষ্টি আলু, খেসারি কলাই, বোরো ধানসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হয়ে থাকে। এসব চরাঞ্চলে কৃষকের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার জন্য পরিবহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়িই তাদের একমাত্র ভরসা। ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন দীর্ঘদিনের হলেও এখন চরাঞ্চলের মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে ভাড়ায় চালিত ঘোড়ার গাড়ির জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

Advertisement

একই গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক কামাল হোসেন আগে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। সংসারে সহযোগিতার জন্য গত বছর একটি গাড়িসহ ঘোড়া কিনেছেন। নিজেদের ফসল ঘরে তোলার পাশাপাশি তিনি অন্যদের জমি থেকে ফসল পরিবহন করে কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বাড়তি আয় শুরু করেন। এভাবে সংসারের ঘাটতি পূরণ শেষে আরো সঞ্চয় করেন।

তার দেখাদেখিতে একই গ্রামের আবুল কালাম চলতি বছর একটি ঘোড়াসহ গাড়ি কিনেছেন। তিনি জানান, ঘোড়ার দামও হাতের নাগালে। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি ঘোড়া গাড়িসহ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। ভালো করে যন্ত্র ও খাবার এবং ঘোড়ার কোনো রকম দুর্ঘটনা না ঘটলে বেশ কয়েক বছর গাড়ি চালানো যায়। এছাড়া নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাবার দিতে না পারলে পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা দেখা দেয়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশতিনি আরো জানান, খাদ্য হিসেবে ধানের কুঁড়া, সরিষার খৈল, ছোলা, ভূষি ও চালের খুদ (ভাঙা চাল) ঘোড়ার খুব পছন্দ। সব মিলিয়ে ঘোড়া পালনে খুব বেশি খরচ হয় না। তাছাড়া মাঠে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস থাকার ফলে সেখানেও বেঁধে রাখলে তা খেয়ে পেট ভরে যায়।

একই গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক সাত্তার মুন্সী জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় যমুনার চরাঞ্চলে বালুচর পায়ে হেঁটে ফসল বহন করা প্রায় অসম্ভব। সে জন্য প্রয়োজনের তাগিদে চরাঞ্চলে মালামাল ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়িই প্রধান মাধ্যম। তিনি শুকনো মৌসুমে কলাবাগান থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এবং ফজরের আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি হাকিয়ে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট বাজারে যান বিভিন্নজনের মালামাল নিয়ে। শুধু তাই নয়- বাজার থেকে ফেরার পথে সার, ভূষি, চালের বস্তাসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন।

আওনা চরের কৃষক রতন মিয়া বলেন, চরাঞ্চলে উৎপাদিত বাদাম, ভুট্টা, মসুর কলাই, খেসারি কলাই, মিষ্টি আলু, জমি থেকে ঘোড়ার গাড়িতে পরিবহন করা হয়। এছাড়া চরাঞ্চলে স্থায়ী বাড়িঘরও তৈরির কাজের জন্য ইট, সিমেন্ট, কাঠ, বাঁশ, সিমেন্টর খুঁটি পরিবহনের জন্য ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

আওনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলাল হোসনে বলেন, শুধুমাত্র আওনা এবং ঘুইঞ্চার চরে ৩০টির মতো ঘোড়াগাড়ি রয়েছে। প্রতিদিন কৃষক বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে ঘোড়িগাড়িতে করে তাদের ফসল জগন্নাথগঞ্জঘাট বাজারে নিয়ে আসছেন। বর্ষা মৌসুমে তিন থেকে চার মাস নৌকায় মালামাল পরিবহন করলেও শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়িই প্রধান যানবাহন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!