ধুনট থানার মামলার নথি জানা গেছে, ধুনট সদর ইউনিয়নের মাটিকোড়া গ্রামের মৃত আশাদুল ইসলামের মেয়ে আয়শা খাতুন বেলকুচি গ্রামে তার নানা মৃত কপিল উদ্দিনের বাড়িতে নানি আছিয়া বেগমের সঙ্গে বসবাস করেন। তার স্বামী সোহেল ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে। গত ২৮ নভেম্বর আয়শার প্রতিবেশী নানা সম্পর্কীয় বেলকুচি গ্রামের রফিকুল ইসলাম শাহীন তাকে শেরপুর উপজেলার মাহবুব ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এরপর ওই ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন আয়শা খাতুন।
কিন্তু জ্ঞান ফেরার আগেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে শিশুটিকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন রফিকুল ইসলাম শাহীন ও তার সহযোগীরা। এর আগে সন্তান বিক্রির খবর পেয়ে বেলকুচি গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা আয়েশার একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারপরেই পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধানে নামলে ক্ষিপ্ত হয় ফৌজিয়া বিথীর শ্বশুর রমজান আলী মাস্টার এবং ভাসুর রফিকুল ইসলাম শাহীন।
.png)
শ্বশুর রমজান আলী ঘটনাটি নিয়ে বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের পক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তার ছোট ছেলে বউ স্কুল শিক্ষিকা ফৌজিয়া বিথী ও তারই ছেলে ষড়যন্ত্র করছে। একই দিনে ছোট ছেলে রাজ্জাকুল হায়দার বিদ্যুৎ ও তার স্ত্রী এবং ভুক্তভোগী আয়েশা এক সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন।
রাজ্জাকুল হায়দার বিদ্যুৎ সংবাদ সম্মেলন বলেন, বাবা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে এবং বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের অপকর্ম ঢাকতে আমার এবং আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করছে। এ ঘটনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে বেলকুচি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম শাহীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
থানার ওসি সৈকত হাসান বলেন, আপাতত মায়ের কাছে থাকলেও আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এফিডেফিক মূলে বাচ্চা দত্তক নেয়া হয়েছিল। অসুস্থ অবস্থায় ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখান থেকেই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করা হচ্ছে।