ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেমের বিয়ের ৫ বছর পর বরযাত্রা, বাবা-মায়ের বিয়ে খেল সন্তান

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০০, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রেমের বিয়ের ৫ বছর পর বরযাত্রা, বাবা-মায়ের বিয়ে খেল সন্তান
বর মো. এনায়েত হোসাইন ও কনে খাদিজা আক্তার সেতু (পাশে তাদের সন্তান মো. সামি মাতুব্বর)

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেন মো. এনায়েত হোসাইন (৩০)। তবে এ বিয়ে মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার। এর মাঝে এনায়েতের নামে মামলা করেন। পরে ২০২২ সালে ২৫ দিন জেলে থাকতে হয়। এভাবে চলতে থাকে দীর্ঘ পাঁচ বছর। এর আগে, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর প্রেমিকাকে বিয়ে করার এক বছর পর ২০১৯ সালে কোলজুড়ে আসে সন্তান মো. সামি মাতুব্বর (৪)।

পাঁচ বছর পর স্থানীয় চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সমাধান হয়। অবশেষে ধুমধাম করে আয়োজন করা হয় বিয়ের অনুষ্ঠানের। চার বছরের সন্তান মো. সামি মাতুব্বরকে সঙ্গে নিয়ে বরযাত্রী যান এনায়েত। বাবা আর সন্তানের সাজও ছিল এক। সঙ্গে ছিল ১৬৩ জন বরযাত্রী।

৪ বছরের সন্তান মো. সামি মাতুব্বরকে সঙ্গে নিয়ে বরযাত্রী যান মো. এনায়েত হোসাইনবর এনায়েত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মোতালেব মাতুব্বরের ছেলে। কনে একই গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের মেয়ে খাদিজা আক্তার সেতু।

Advertisement

সোমবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হাসান খান সোহাগ।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন এনায়েত হোসাইন। বিয়ের পরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এভাবে কেটে যায় পাঁচটি বছর। মামলাও হয় ছেলেসহ পরিবারের বিরুদ্ধে। ছেলে জেলও খাটেন। অবশেষে মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধান হয়। পরে ওই বিয়ে মেনে নেয় মেয়ের পরিবার। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরযাত্রী দাওয়াত করে মেয়েকে স্বামীর হাতে তুলে দেন। এ বরযাত্রীতে ছিল ছেলেপক্ষের ১৬৩ জন।

বর মো. এনায়েত হোসাইন ও কনে খাদিজা আক্তার সেতুর গায়ে হলুদবর মো. এনায়েত হোসাইন বলেন, আসলে অনেক কষ্টের পরে আমাদের বিয়ে মেনে নেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অনেক কষ্ট ও সাধনায় আমাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ায় অনেক আনন্দিত।

এনায়েত বলেন, আমার ইচ্ছে ছিল মানুষকে এটা প্রমাণ করে দেখাবো ভালোবাসার জয় একটা সময় হয়। সেটার প্রমাণ দেখাতে পেরে আমি আজ সত্যিই গর্বিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!