ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে, স্বামীসহ প্রাণ দিলেন নববধূ

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে, স্বামীসহ প্রাণ দিলেন নববধূ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর মহাদেবপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে স্বামী-স্ত্রী গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এর আগে, রাত ৯টার দিকে তারা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। 

মৃতরা হলেন- জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের বরাইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুমন (৪০) ও তার স্ত্রী গোলাপি (৩০)।

নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমন পেশায় একজন দিনমজুর। সুমনের বড় স্ত্রী খাদিজাকে না জানিয়ে গোপনে গত এক সপ্তাহ আগে গোলাপিকে বিয়ে করেন। গত মঙ্গলবার খাদিজা তার বাবার বাড়ি গেলে এ সুযোগে ছোট বউ গোলাপিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন সুমন। বুধবার বিকেলে খাদিজা বাড়ি আসার পর থেকেই ঝগড়া চলছিল। রাতেই তারা একসঙ্গে খাবারও খান। পারিবাকি দ্বন্দ্বে রাত ৯টার দিকে সুমন ও গোলাপি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করলে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন। পরে তাদের উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে গোলাপি ও রাত ২টার দিকে সুমন মারা যান।

সুমনের প্রতিবেশী চাচি গৃহবধূ চাম্পা জানান, সুমনের আগের সংসারে দুই সন্তান ও স্ত্রী আছেন। দিনমজুর হওয়ার পরও গোপনে আরেকটি বিয়ে করে মঙ্গলবার বাড়ি নিয়ে আসেন। এ সময় প্রথম স্ত্রী খাদিজা তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে খাদিজা মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি আসেন। এরপর থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। রাতেও তারা সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে শুয়ে পড়েন।  সুমন প্রথম স্ত্রীর কাছে যেতে চাইলেও দু-জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাত ৯টার দিকে তারা দু-জনে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। বিষয়টি জানার পর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু আনসারি বলেন, হাসপাতালের নিয়ে আসার পর থেকে তাদের দু-জনের অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রেফার্ড করার প্রক্রিয়া করা হলেও রোগীর স্বজনরা অন্যত্র নিতে চাননি। তারপরও তাদের যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপি ও পরে সুমন মারা যান।

মহাদেবপুর থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ময়নাতদন্তের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!