বৃহস্পতিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার গোদাগাড়ী সিন্দুর্ণা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক চোরকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আটক রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের গোদাগাড়ী গ্রামের হানিফার ছেলে মামুন ভোরে একই এলাকার সিন্দুর্ণা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে যান। এ সময় আনোয়ার হোসেনের মেয়ে অনামিকা বাড়ির উঠানে থাকা অটোরিকশার ব্যাটারি খোলার শব্দ শুনতে পান। জানালার ফাঁক দিয়ে ঐ চোরকে দেখতে পেয়ে তার মা জেসমিনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। গৃহকর্তা আনোয়ার হোসেন বাড়িতে না থাকায় মা ও মেয়ে ঘর থেকে বের হলে ঐ চোর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়ির বেড়ার সঙ্গে চোর মামুন আটকা পড়লে তারা তাকে জাপটে ধরেন। তাদের হাত থেকে পালিয়ে যেতে মা ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুসি, চড় ও থাপ্পড় মারতে থাকেন মামুন। এরপরেও ছেড়ে না দেওয়ায় মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন তিনি।
.png)
এ সময় মা ও মেয়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে চোরের কাছ থেকে তাদের রক্ষা করে এবং তাকে আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আটককৃত চোরকে সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহমান সোহান জানান, মা ও মেয়ের শরীরের কয়েক স্থানে কামড়ের দাগ আছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, তিনি উপজেলায় মিটিংয়ে ছিলেন। এজন্য বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। পরিষদে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করলে চোরকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পীরগঞ্জ থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের তাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।