ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেলেন স্বামী

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪১, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেলেন স্বামী
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স- ফাইল ফটো

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আসমা বেগম নামে এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গিয়েছেন স্বামী।

বুধবার সকালে ঐ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় শশীভূষণ থানা পুলিশ। এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান আসমা বেগম।

মৃত আসমা বেগম চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামের আজাদ হোসেন মাঝির স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এওয়াজপুর গ্রামে। ঐ এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে আসমা বেগম।

Advertisement

মৃত গৃহবধূর মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ১২ বছর আগে আজাদ মাঝির সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার মেয়ে আসমার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। তৃতীয় কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার পর থেকেই আজাদ আমার মেয়ে আসমাকে নানা অজুহাতে প্রায় সময় মারধর করতো। মঙ্গলবার বিকেলে পানি খাওয়ার মগ পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় আসমাকে তার স্বামী মারধর করে। ঘটনাটি মুঠোফোনে আসমা আমাদের জানায়। পরে রাতে আজাদ আমাকে ফোন করে জানান আসমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এ জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। মেয়ের স্বামীর কাছ থেকে এ খবর পেয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখি হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে আসমার মরদেহ।

আসমা বেগমের ভাই জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আজাদ আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করতো এবং টাকা চাইতো। বোনের শান্তির কথা বিবেচনা করে দিনমজুরি করেও সাধ্যমতো টাকা দিতাম আজাদকে। মঙ্গলবার আমার বোনকে আজাদ মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এতে অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমার বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত ৮টায় আসমা মারা গেলে তার মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় আজাদ। পরে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ আমার বোনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

মৃত আসমা বেগমের স্বামী আজাদ মাঝিসহ তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি ম. এনামুল হক জানান, বিষক্রিয়ায় ঐ গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ঐ গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: ভোলা মরদেহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!