ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রঙিন ফুলকপি চাষ, প্রথমবারেই সফল হিরা 

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
প্রকাশিত: ১০:২৭, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
রঙিন ফুলকপি চাষ, প্রথমবারেই সফল হিরা 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সচরাচর সাদা ফুলকপি দেখে ও কিনে অভ্যস্ত দেশের মানুষ। এবার হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা শাহিরান হিরা। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মুলা, গাজর, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজির চাষ করা হয়। তবে এবার দেখা মিললো একটু ব্যতিক্রমী রঙিন ফুলকপির চাষ। প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষে সফলতা পেয়েছেন চিরাং ইউনিয়নের মনাটিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা শাহিরান হিরা।

শাহিরান হিরা বলেন, আমি কেন্দুয়া সরকারি কলেজে সমাজ কর্ম বিষয়ে অনার্স ২য় বর্ষের পড়ছি। আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রঙিন ফুলকপি চাষ দেখে উৎসাহিত হই। এরপর রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠি। পরে সিনজেনটা এগ্রো কোম্পানির কাছ থেকে বিনামূল্যে ২০০০ পিস বীজ সংগ্রহ করি। এ বছর ১৫ শতাংশ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করি। এখন আমার জমিতে ১৫০০ রঙিন ফুলকপি বিক্রি উপযোগী হয়েছে। বাকিগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। রঙিন ফুলকপির মধ্যে কোনোটির রঙ হলুদ আবার কোনোটি বেগুনি। তবে কোনো রকম কীটনাশক ছাড়াই এসব রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। 

তিনি আরো বলেন, এই রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উৎসুক জনতা ভিড় জমান। কেউ কেউ বাগান থেকেই ফুলকপি কিনে নিয়ে যান। আবার কেউ এই ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে পরামর্শ নেন। অনেকেই রঙিন ফুলকপির সঙ্গে ছবি তোলাসহ ভিডিও ধারণও করছেন।

Advertisement

শাহিরান হিরা বলেন, আমি মোট ৯০ শতাংশ জমিতে সাধারণ হল্যান্ড জাতীয় সাদা ফুলকপি চাষ করেছি। তাই প্রথম দিকে আমি সাধারণ বাঁধাকপি ও ফুলকপিই চাষ করতে চেয়েছিলাম। পরে মনে হলো একটু রঙিন কপি চাষ করলে কেমন হয়। এরপরে ১৫ শতাংশ জমিতে চাষ করি। যেখানে হলুদ রঙের ফুলকপি ১৫শ পিস, এর সঙ্গে অল্প ব্রুকলি ও বাঁধাকপি রোপণ করি।

প্রতিটি রঙিন ফুলকপির ওজন এক থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হয়েছে। বাজারে পাইকারি ৬০-৭০ টাকা পিস বিক্রি হবে বলে আশা করছি। আমার ১৫ শতাংশ জমির সবগুলো রঙিন ফুলকপি বিক্রি করতে পারলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে। এখন আমি সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।

কৃষিকে এখন আধুনিক পেশা হিসেবে আপনারা নিতে পারেন। আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে হবে। চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এই রঙিন ফুলকপি চাষে সফলতায় ওই এলাকার অনেক কৃষক ও তরুণরা আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, রঙিন কপি নিঃসন্দেহে একটি আকর্ষণীয় সবজি। রঙিন কপি চাষে বর্তমানে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। সেইসঙ্গে মানবদেহের জন্য সাদা ফুলকপির চেয়ে এই রঙিন ফুলকপি অনেক পুষ্টিকর এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। 

তরুণ উদ্যোক্তা শাহিরান হিরার রঙিন ফুলকপি চাষের প্রচার প্রচারণার ফলে ভোক্তা ও বিক্রেতাদের মাঝে ক্রয়-বিক্রয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কীটনাশক ছাড়াই চাষাবাদ করা যাচ্ছে এই রঙিন কপি। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। আশা করি আগামীতে রঙিন ফুলকপি চাষের পরিমাণও বাড়বে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: নেত্রকোনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!