ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অসহায়রা তার বিশেষ মেহমান

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৭:১৭, ১২ জানুয়ারি ২০২৪
অসহায়রা তার বিশেষ মেহমান
হোটেলে আসা অসহায়দের নিজের হাতে খাবার বণ্টন করেন মো. আবুল কাশেম

ভোলার লালমোহনের খাবার হোটেল মালিক মো. আবুল কাশেম। হোটেল তালুকদার নামে তার ঐ খাবার হোটেলের বেশ পরিচিতি রয়েছে।

লালমোহন পৌরশহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে একটি গলির ভেতরে তার হোটেলের অবস্থান। যেখানে কেবল বিক্রি হয় দুপুরের খাবার। এ খাবারের কদর রয়েছে উপজেলার মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তদের কাছে। তবে হোটেল মালিক আবুল কাশেম কেবল খাবার বিক্রিই করেন না, তিনি ফ্রিতে অন্তত ৭০ থেকে ১০০ জনকে খাওয়ান। এরা কেউই সচ্ছল না। আবুল কাশেমের হোটেলে যারা বিনামূল্যে খান তারা সকলেই অসহায়-ভিক্ষুক।

তবে হোটেল মালিক আবুল কাশেমের কাছে আসা অসহায় ভিক্ষুকরা হলেন বিশেষ মেহমান। তিনি তাদের পরম যত্নে মাছ-মাংস দিয়ে নিজ হাতে বণ্টন করে খাওয়ান।

Advertisement

হোটেল তালুকদারের মালিক মো. আবুল কাশেম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। শুরুতে দুপুর বেলায় হোটেলে অসহায় মানুষরা আসতেন। অনেকে খাবার খেতে চাইতেন। তখনও নিজের সাধ্যের মধ্যে খাবার দিতাম। খাবার দিতে দিতে এসব অসহায় মানুষের প্রতি মায়া বাড়তে থাকে। গত ৫ বছর ধরে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে নিয়মিত ৭০ থেকে ১০০ জন ভিক্ষুককে পেট ভরে খাবার খাওয়াই। এরা আমার কাছে বিশেষ মেহমান। সাধ্যের মধ্যে তাদের খাবার দিতে পেরে নিজেরও শান্তি লাগে। খাবারের পর অসহায় এসব মানুষের তৃপ্তির ঢেকুরে নিজেও মানসিকভাবে তৃপ্তি পাই। এই কাজ অব্যাহত রাখতে সকলের দোয়া কামনা করছি।

এ হোটেল খেতে আসা অসহায় বিবি হাজেরা, জোসনা বেগম ও ছালেহা বিবি জানান, বৃহস্পতিবার লালমোহনে হাঁটের দিন থাকে। এজন্য দূর-দূরান্ত থেকে আমরা এখানে মানুষের থেকে সহযোগিতা তুলতে আসি। বাড়ি ফিরতে অনেক দেরি হয়। এজন্য বিগত বেশ কিছু মাস ধরে আমরা এই হোটেলে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার খাই। হোটেলের মালিক আমাদের যত্ন করে খাওয়ান। এজন্য সপ্তাহে একদিন অন্তত মাছ-মাংস খেতে পারি। এই হোটেলের মালিকের জন্য আমরা দোয়া করি।

হোটেল মালিক আবুল কাশেমের এমন কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্থানীয় অনেকে। তারা জানান, কাশেম ভাই প্রতি বৃহস্পতিবারে গরিব মানুষকে বিনামূল্যে পেট ভরে ভাত খাওয়ান। এটি লালমোহনের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ মানবিক কাজের জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।

লালমোহন পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন বেলন, হোটেল তালুকদারের মালিক আবুল কাশেম মিয়া একজন ভালো মানুষ। তার এই হোটেলে আমি অনেক সময় দুপুরের খাবার খাই। অনেক আগ থেকেই তিনি সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে গরিব-অসহায় মানুষের ফ্রিতে পেট ভরে খাবার খাওয়াচ্ছেন। এটি একটি মানবিক কাজ। এমন কর্মের জন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে সমাজের অন্যান্য বিত্তবান লোকদেরও যার যার স্থান থেকে এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!