ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেবাপ্রত্যাশী বেড়েছে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ৫ জানুয়ারি ২০২৪
সেবাপ্রত্যাশী বেড়েছে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স- ফাইল ফটো

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা। সদ্য বিদায়ী বছর ২০২৩ সালে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৬৩৪ জন।

এর আগে, ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৫৬৪ জন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দুইগুণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৯ জন। আর ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ হাজার ৫৩৫ জন। ২০২৩ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয় ৮৪০ জন রোগীকে।

Advertisement

২০২৩ সালে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, জ্বর ও মারামারিতে আহত রোগীরা সবচেয়ে বেশি সেবা নিয়েছেন। এছাড়া এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদায়ী বছরে স্বাভাবিক প্রসব করেছেন ৮২৫ জন প্রসূতি। এ বছর চিকিৎসা নেয়া রোগীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যের অন্তত দুই কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালের থেকে সদ্য বিদায়ী বছরে অনেকাংশে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা। ২০২২ সালে বহির্বিভাগ থেকে ৫৮ হাজার ৫৬৪ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ঐ বছর ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ হাজার দুইশ’র মতো রোগী। ২০২২ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছিল ৫৩৭ জন প্রসূতির। সে বছরে সাশ্রয়ী মূল্যে প্যাথলজি বিভাগ থেকে ল্যাব টেস্ট হয়েছিল এক লাখ তিন হাজার তিনশত টাকার। আর সেখানে বিদায়ী বছর ২০২৩ সালে ল্যাব টেস্ট হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ২০ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থার চালু রয়েছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের তুলনায় নামমাত্র মূল্যে করা হয়। প্যাথলজি বিভাগের ল্যাব টেস্ট থেকে আসা অর্থ সরকারিখাতে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান ইউএইচএফপিও ডা. মো. তৈয়বুর রহমানসহ সব চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা এবং স্টাফ ঐক্যবদ্ধভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটজন চিকিৎসক, উনিশ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও চারজন মিডওয়াইফ কাজ করছেন। তাদের চেষ্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের সেবায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে লালমোহনের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, স্টাফসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। এর ফলে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর সেবার মান বেড়েছে। নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে প্যাথলজি ল্যাব টেস্টও। উন্নতির এই ধারা ২০২৪ সালেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সব সময় চেষ্টা করবো সামর্থ্যের মধ্যে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার।

তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে যোগদানের পরেই আমি ইসিজি চালু করি। তবে তা কিছুদিন পর পর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ইসিজিসহ অন্যান্য যে সেবা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে তাও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা হবে। এ জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: লালমোহন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!