শুধু তাই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর মাত্র ১ বছরেই ডা. তানভীর হাসান জিকো পাল্টে দিয়েছেন হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান।
জানা যায়, এ হাসপাতালে যোগদানের পরই তিনি রোগীদের সুবিধার্তে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কক্ষ বদল করে জরুরি সেবাকক্ষের পাশে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় অপারেশন থিয়েটার চালু করেন। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো প্যাপিলোমা এক্সসিশন অপারেশন সফল ভাবে সম্পন্নের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অপারেশন থিয়েটারের যাত্রা শুরু হয়। এর পর থেকে নিয়মিত ছোট বড় বিভিন্ন অপারেশন চলছে।
.png)

সার্জারি বিভাগের বিভিন্ন অপারেশন নিয়মিত চলমান থাকলেও একই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো চালু হয় গাইনী বিনামূল্যে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন। এরইমধ্যে সিজারিয়ান অপারেশনসহ ছোট বড় প্রায় ২ শতাধিক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হচ্ছে।
বিভিন্ন অপারেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন- জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. মরিয়ম, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থিসিয়া) ডা. মো. জুবায়ের, ডা. ফাহমিদা, ডা. লিজাসহ আরো অনেকে।
আগে যেখানে দুপুরের পর চিকিৎসক পেতে হিমশিম খেতে হতো পাওয়া, সেখানে এখন এ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সেবার মান বাড়ায় প্রতিদিন ভিড় করছে বিপুল সংখ্যক রোগী। জনবল সংকট থাকায় অস্থায়ীভাবে দেওয়া হয়েছে কিছু নিয়োগ। সার্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। একি সঙ্গে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা খুর্শিদ উদ্দিন জানান, এখন সবসময় ডাক্তার পাওয়া যায়। কোনো হয়রানি নেই৷ সেবার মান বাড়ায় অনেক মানুষ আসছে।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি এক রোগী জানান, এর আগেও এ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। কিন্তু এখনকার চিকিৎসার মান আর পরিবেশ আগের থেকে উন্নত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান জিকো বলেন, নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি বিনামূল্যে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন চালুর মাধ্যমে অত্র এলাকার জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এ হাসপাতালটি সম্পূর্ণ দালালমুক্ত। সকল স্টাফরা আক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে আশা জনগণের ধারণা অনেকটাই পাল্টে যাবে।