ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভাঙারি মালামাল সংগ্রহে চলে রাজুর সংসার

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৭:১১, ৪ জানুয়ারি ২০২৪
ভাঙারি মালামাল সংগ্রহে চলে রাজুর সংসার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যুবক তোফাজ্জল হোসেন রাজু। পেশা ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করা। গত চার বছর ধরে এ কাজ করছেন তিনি। এই আয়েই চলে তার সংসার।

তোফাজ্জল হোসেন রাজু ভোলার লালমোহন পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগর চৌমুহনী এলাকার মুসলিম পাটওয়ারী বাড়ির মফিজল হকের ছেলে।

তিনি বলেন, আগে রিকশা চালাতাম। এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে রিকশাটি কিনেছি। তবে কিছুদিন পরেই ঐ রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এরপর কয়েকদিন বেকার অবস্থায় ছিলাম। এতে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। তাই এই ভাঙারি মালামাল সংগ্রহের কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হই। ঘুরে বেড়াই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করি মানুষের অপ্রয়োজনীয় পুরনো টিন, লোহা ও প্লাস্টিকের মালামাল। এসব কেজি দরে মানুষের কাছ থেকে কিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেড় থেকে দুই মণের মতো পুরনো ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করতে পারি। এরপর তা নিয়ে আড়তে বিক্রি করি।

Advertisement

রাজু বলেন, মাস শেষে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মতো এসব পুরনো ভাঙারি মালামাল বিক্রি করতে পারি। ক্রয়সহ অন্যান্য খরচ বাদে এখান থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। এ লাভের টাকায়ই চলে আমার সংসার। সংসারে স্ত্রীসহ তিন কন্যাসন্তান আছে। এদের মধ্যে বড় মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে, মেঝো মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোটজনের বয়স কম হওয়ায় ঘরে তার মায়ের সঙ্গেই থাকে। মানুষজনের অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বিক্রির পর যা লাভ হয় তা দিয়েই স্ত্রীসহ কন্যাদের নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছি।

ভাঙারি মালামাল সংগ্রহকারী রাজু আরো বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে যে রিকশা কিনেছি সেই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। যার জন্য ঐ ঋণ নতুন করে আবা রিনিউ করেছি। এখনো টানছি সেই ঋণের বোঝা। কারণ এসব ভাঙারি মালামালে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকমে কেবল সংসারই চলে। সংসার চালানোর পর মাস শেষে আর অতিরিক্ত তেমন টাকা থাকে না, এ জন্যই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলে ঋণ পরিশোধসহ পুরনো এই ভাঙারি মালামাল বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করতে পারতাম।

রাজুর কাছে বাসার অপ্রয়োজনীয় কিছু প্লাস্টিকের সামগ্রী বিক্রি করেন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মোহাম্মদ আলী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঘরে এগুলো পড়েছিল। যা কোনো কাজে আসছে না। তাই ওনার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। বিক্রি করে কিছু টাকাও পেয়েছি।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!