ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রতিবন্ধী হয়েও করেন ব্যবসা, ধরেছেন সংসারের হাল 

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫০, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রতিবন্ধী হয়েও করেন ব্যবসা, ধরেছেন সংসারের হাল 
শারীরিক প্রতিবন্ধী রায়হান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউপির সোনাপদ্মা গ্রামের রায়হান জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার নেই পায়ে হেঁটে চলার সক্ষমতা। তবে প্রতিবন্ধী হলেও কারো কাছে হাত না পেতে মুরগি কেনা বেচা করে সংসার চালান। 

নিজের স্থায়ী কোনো দোকান না থাকায় ফুটপাতে বা রাস্তার ধারে তাকে কেনা বেচা করতে হয়। রায়হান হার না মেনে কাঁধে তুলে নিয়েছেন পাঁচ সদস্যের পরিবারের বোঝা। 

রায়হান জানান, অনেক কষ্টের জীবন তার। বিয়ে না করলেও সংসারে রয়েছে তার বৃদ্ধ মা ও দুই বোন। কিছু বুঝে উঠার আগেই ছোট বেলায় হারিয়েছেন বাবাকে। বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতো কিছুর পরেও বাজারে ভ্রাম্যমাণ মুরগির ব্যবসা করে বড় বোনকে অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। 

Advertisement

রায়হান জানান, ভ্যান গাড়িতে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাড়ি থেকে কখনো বাজার থেকে হাঁস- মুরগি কেনেন। এরপর তা কিছুটা লাভে বিক্রি করেন। এভাবে যে আয় হয় তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। প্রতিদিন গড়ে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়।

আরো পড়ুন >>> পৌষের শীতে সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি 

স্থানীয়রা জানান, রায়হান খুব সহজ-সরল মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরেও জীবিকার তাগিদে ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন। এতে দিনে তার ২০০-৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না। মাসের সব দিন তার বেচা কেনা হয় না। শুধু হাটের দিন বেচা কেনা হয়। এতে মাসে ৮-১০ দিন তিনি কেনা- বেচা করতে পারেন। এ দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। 

কখনো তিনি অন্যের কাছে হাত পেতে সাহায্য চাননি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করা হলে তিনি একটু সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারতেন।

আরো পড়ুন >>> মাত্র ১৩ টাকায় ব্যাগ ভর্তি বাজার!

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, রায়হানের কাজের স্থানী কোনো ঠিকানা নেই। বিভিন্ন জায়গায় বসে তিনি সাইকেল মেরামত করেন। এতে যতসামান্য আয় হয়। তার থাকার কোনো ভালো ঘর নেই। 

ফেরদৌস তপন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রায়হান প্রতিবন্ধী হলেও পরিশ্রমী। সমাজের বিত্তবানদের উচিত তাকে সহযোগিতা করা।

প্রতিবন্ধী রায়হান বলেন, একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে আমার আয় কম। যা আয় করি তা দিয়ে এখন আর কোনোভাবেই সংসার চলছে না। তাই কাজ শেষে বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তায় কম দামে যে সবজি পাই তাই কিনি। নিজের কোনো স্থায়ী জায়গা নেই, মানুষের দোকানের সামনে বসেই কেনাবেচা করি। আজ এক দোকানের সামনে তো কাল অন্য দোকানের সামনে এভাবেই চলছে জীবন। 

স্থানীয় রাকশা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেখছি রায়হান রাকসা বাজারে মুরগি বিক্রি করে থাকেন। রায়হানের কষ্ট দেখে তার বসার জন্য নতুন বাজারে আমার দোকানের সামনে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। 

রায়হান বলেন, পুঁজি স্বল্পতার কারণে ব্যবসা বড় করতে পারি না। অনেকে আমাকে ভিক্ষা করতে বললেও লজ্জা লাগে। তাই ছোট বেলায় মায়ের জমানো টাকা দিয়ে এ পেশায় আসি। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় আমার একটা স্থায়ী দোকান হলে ভালো হতো। 

বেড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোতালেব সরকার জানান, তাকে আমি চিনি। তিনি প্রতিবন্ধী হলেও অন্যের গলগ্রহ হতে চান না। তিনি শ্রম দিয়ে রোজগার করেন। সমাজ সেবা অফিস থেকে এরই মধ্যে তার ভাতার ববস্থা করা হয়েছে।    

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!