গত বছরের তুলনায় নওগাঁ জেলায় এ বছর ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা, আমদানি নির্ভরতা কমানো, ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ এবং দাম ভালো পাওয়ায় বেড়েছে সরিষা চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টন সরিষা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় ৩৩ হাজার ৮০০ জন কৃষককে উন্নত জাতের ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। উন্নত বারি-১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ এবং বিনা-৪, ৯ টরি-৭ সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছর ৪৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল।
.png)
খরচ কম এবং লোকসানের ঝুঁকি কম থাকায় বাড়ছে সরিষা চাষ। গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবাদের জমি বেড়েছে। চাষিরা বলছেন- প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে হাল চাষ, পানি সেচ, সার, ওষুধ ও শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক খরচ পড়ে ৩-৪ হাজার টাকা। যেখানে ফলন হয় ৫-৬ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা চাষিদের।
সরিষা আবাদে একটি সেচ দিতে হয়। যেখানে বিঘাপ্রতি খরচ পড়ে অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সরিষা রোপণে গাছ বড় হওয়ার পরই বৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের সেচ খরচ বেঁচেছে অন্তত ২১ কোটি টাকা।
মান্দা উপজেলার কালিগ্রাম গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ৬ মণ ফলনের আশা। সরিষা তুলে ঐ জমিতে বোরো আবাদ করা হবে। গত বছর প্রতিমণ সরিষা ৩ হাজার ৪০০ টাকা মণ বিক্রি করেছিলাম। এ বছরই ভালো দাম পাওয়ার আশা।
কালিকগ্রাম গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, দেড় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। সরিষা চাষে একটি সেচ দিতে। যেখানে খচর পড়ে অন্তত ১২০০ টাকা। সরিষা রোপণে গাছ বড় হওয়ার পরই বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বাড়তি সেচ দিতে হয়নি। ফলে প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো বেঁচে গেছি।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। দলীয় আলোচনা ও মাঠ দিবসসহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা করে সরিষা চাষ করার জন্য কৃষকদের শুরু থেকে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রণোদনা হিসেবে ৩৩ হাজার ৮০০ জন কৃষককে উন্নত জাতের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।