এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সোমবার সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, এবতেদায়ী ও দাখিল শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্য বই তুলে দেওয়া হয়।
সকাল ১১টার দিকে পৌর শহরের রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আক্তার।
.png)
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইলিয়াস উদ্দিন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, মো. আজিজুর রহমান, হিরালাল সাহ, প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার সাংবাদিক কাজী মফিকুল ইসলাম, মো. জালাল হোসেন মামুন প্রমুখ।
এছাড়া বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্রেণিভিত্তিক কয়েক শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা। পরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়।
এদিকে বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেবল শহরেই নয়, উৎসবের এ রং ছড়ায় গ্রামাঞ্চলেও। নতুন বই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। এ সময় নতুন বইয়ের মলাট উল্টিয়ে বইয়ের ঘ্রাণ নিতে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থীকে। পরে অতিথিরা পৌর শহরের তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করেন।
পৌর শহরের তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাছরিন নবী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি মাদরাসাসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য অর্ধশতাধিক বেসরকারি এবং কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে চাহিদানুযায়ী এক লাখ ১৬ হাজার ৯০০ বই নতুন বই বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩ হাজার ৫শ, প্রথম শ্রেণিতে ৫ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪ হাজার ৭৫০, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ হাজার ৭০০ ও পঞ্চক শ্রেণিতে ৪ হাজার ৫০০ সেট বই রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কাজী জান্নাতুল মাওয়া, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নন্দীতা সাহা, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. আহনাব করিম জারিফ জানায়, বছরের শুরুতেই নতুন বই পেয়ে তাদের কাছে খুবই আনন্দ লাগছে।
অভিভাবক মো. আশরাফুল আলম বলেন, নতুন বই পেয়ে আমার ছেলে অনেক খুশি। ছেলের উচ্ছ্বাস দেখে আমার শৈশবে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। সন্তানের আনন্দ দেখে খুব আনন্দ লাগছে।
পৌর শহরের রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই তুলে দিতে পাড়ার মজাই রয়েছে আলাদা। বছরের প্রথম দিনে নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বলনে, বছরের প্রথম দিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া বর্তমান সরকারের শিক্ষাখাতে বড় একটি সাফল্য। বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি তাদের উৎসাহ বাড়বে সেই সঙ্গে কমবে ঝড়ে পড়ার সংখ্যা। এর ফলে বৃদ্ধি পাবে শিক্ষার মান।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার বলেন, কোমলমতি শিশুরা হলো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রাথমিক শিক্ষা হলো স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার শিক্ষা। আর এটা নিয়ে কাজ করছেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। একজন মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করতে বছরের শুরুতেই তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সেই গুরুত্বেরই একটি অংশ।