ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষ

নিহত চারজনের বাড়ি একই এলাকায়

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:১৩, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩
নিহত চারজনের বাড়ি একই এলাকায়
নিহত জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী-সন্তান ও মায়ের আহাজারি- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকনিকের বাসের সঙ্গে লেগুনার সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চারজনের বাড়ি একই এলাকায়। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডে এবং খুব কাছাকাছি তাদের বাড়ি। বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো আটজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- চকরিয়ার উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর করমহরীপাড়ার মোস্তাক আহমদের ছেলে রিদুয়ান, সামাজিকপাড়ার রশিদ আহমেদের ছেলে আবু বক্কর, বাদশা মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন ও বত্তাতলীর মোজাফফর আহমদের ছেলে মহিউদ্দিন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে কান্নার আহাজারি পড়ে গেছে। নিহতদের স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছেন। প্রতিবেশীরা এসে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নিহতদের সবার ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। তাদের যে বাবা নেই তারা বুঝতেই পারছে না। তারা অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করছে।

Advertisement

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে কাজে যাওয়ার জন্য বের হন আমার স্বামী। কিন্তু ৮টার দিকে খবর আসে স্বামী গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে গিয়ে দেখি স্বামীর নিথর দেহ হাসপাতালের লাশ ঘরে পড়ে আছে। আমার তিনটি মেয়ে ও একটি শিশুসন্তান আছে। স্বামীর মৃত্যুতে পরিবারে উপার্জন করার কেউ রইলো না।’

দুর্ঘটনাকবলিত বাস- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশনিহত আবু বক্করের স্ত্রী ইয়াসমিন। তিনি বর্তমানে গর্ভবতী। আর কয়েকদিন পরই পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় ছিল তাদের অনাগত সন্তান। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখার আগেই বিদায় নিলেন হতভাগা বাবা। তাদের ঘরেও রয়েছে দুই সন্তান। স্বামী আবু বক্কর মারা যাওয়ায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইয়াসমিন।

নিহত মহিউদ্দিনের আত্মীয় মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মহিউদ্দিন আমার ভগ্নিপতি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। প্রতিদিনের ন্যায় আজ ভোরে পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাট এলাকায় একটি ছাদ ঢালাইয়ে কাজে যাওয়ার জন্য বের হন মহিউদ্দিন। কিন্তু কাজে যাওয়ার পথে সড়কে প্রাণ হারালেন তিনি।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং এলাকায় গাজীপুর থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারে পিকনিকে আসা জাকির ট্রাভেল ও চট্টগ্রামমুখী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনার চার যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরো আটজন।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুল হক বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়ার ইউএনও ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতউজ্জ জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!