ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বছরজুড়ে আলোচনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকাদের অবস্থান!

হাসানুজ্জামান
প্রকাশিত: ১৭:৩২, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
বছরজুড়ে আলোচনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকাদের অবস্থান!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভালো লাগা, চেনা-জানার পর স্বপ্ন নিয়ে নারী-পুরুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবার লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইটের বিষয় তো আছেই। দেশ সংস্কৃতিভেদে প্রেমের সম্পর্কের উদ্দেশ্যও থাকে ভিন্ন। আমাদের দেশে সাধারণত বিয়ে করে একসঙ্গে ঘর করার স্বপ্ন দেখেন প্রেমিক-প্রেমিকরা। ভিন্ন উদ্দেশ্যের পথ ধরে অনেক সম্পর্কই ভেঙে যায়। পরে প্রেমিকারা বিয়ের দাবিসহ তাদের অধিকার আদায়ের পথে পা বাড়ান। সম্পর্ক করার পরও প্রেমিক বা স্বামীর অধিকার না দেওয়া স্বামীর বাড়িতে তারা অবস্থান নেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা মামলা করেন। কেউ কেউ তো আত্মঘাতী হওয়ার হুমকিও দেন। 

বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ২০২৩ সালজুড়েই ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন’- এমন অনেক খবর দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো সংখ্যায় নেহাত কম নয়। চলতি বছর এমন প্রায় অর্ধশত খবর চোখে পড়ে।

এ বছরের ৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের মধুপুরের একটি সংবাদ চোখে পড়ে। সেই খবরে দেখা যায়- কলেজে পড়ার সময় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় এক তরুণীর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ প্রেমিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন ঐ তরুণী। সেসময় তিনি অভিযোগ করেন- প্রেমিকের বাড়ি গেলে ঐ যুবক ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করে তাকে বাইরে বের করে দেন। তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয়া হয়।

Advertisement

একই মাসের ৬ তারিখে শরীয়তপুরে এক কলেজছাত্রের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন তার প্রেমিকা। ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন, দুই বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু পরে প্রেমিক বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তিনি অনশনে বসেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত কলেজছাত্র বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

ঐ মাসের ৮ তারিখে পটুয়াখালীর দুমকীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন এক তরুণী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ বছর আগে ঐ যুবকের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রেমিক এ সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কোনো উপায় না পেয়ে প্রেমিকের গ্রামের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। ঐ যুবকের মা বলেন, ঐ মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন ছেলে জানিয়েছে ঐ মেয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ছেলে যদি মেনে না নেয় তাহলে আমি কী করবো?

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রেমের টানে স্বামীকে তালাক দেন এক গৃহবধূ। প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়েন তিনি। এরপর প্রেমিক অস্বীকার করলে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নেন ঐ নারী। বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান প্রেমিক।

একই মাসের ৮ তারিখে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়  চার সন্তানের জননী বিয়ের দাবিতে ২৫ বছরের প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করে জানান, তিন বছর ধরে সঙ্গে ঐ যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বিষয়টি ঐ গৃহবধূর স্বামী এবং চার সন্তান জেনে যায়। এরপর স্বামী তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু প্রেমিক এ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করায় অনশন শুরু করেন। 

১০ ফেব্রুয়ারির একটি সংবাদ চোখে পড়ে, বিয়ের দাবিতে ফরিদপুরের সালথায় প্রেমিক তিন সন্তানের জনকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী অবস্থান নেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশনে বসার খবর প্রকাশিত হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই মেয়ে রেখে বিয়ের দাবিতে ভাগনের বাড়িতে মামি অবস্থান নেন। ২২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরায় প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশনের খবর প্রকাশিত হয়। দাবি একই। ২৬ ফেব্রুয়ারির সংবাদে জানা যায়, মাগুরার শ্রীপুরে দুই সন্তানের জননী বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি গা ঢাকা দেন।

মার্চ মাসেও দেখা যায় এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। এ মাসের ৭ তারিখে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন এক তরুণী। প্রেমিকার অবস্থান নেয়া দেখে প্রেমিকসহ তার পরিবারের সবাই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। ১১ মার্চ প্রকাশিত খবরে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের দাবিতে স্কুলপড়ুয়া কনের বাসায় অবস্থান নেন এক যুবক। এদিন আবার ঐ মেয়ের অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরে বিয়ের আসর থেকে বরপক্ষ ফিরে যায়।

একইদিন প্রকাশিত আরেক খবরে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে অনশনে বসেন এক প্রেমিকা। এদিন আবার ঐ যুবক জামাই সেজে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে বের হচ্ছিলেন। এ সময় প্রেমিকা এসে হাজির হন। তার জোর দাবির মুখে বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যান প্রেমিকসহ পরিবারের লোকজন।

মে মাসের ২ তারিখের খবর থেকে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিয়ের দাবিতে ১৩ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে থাকেন এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রস্তুতি থাকার পরেও তিনি এজন্য পরীক্ষা দিতে পারেননি। এখনে ঘটনা একটু জটিল। অনশনে বসা ঐ তরুণী অভিযুক্ত যুবকের প্রথম প্রেমিকা। ঐ যুবক একই সময়ে দ্বিতীয় সম্পর্কে জড়ান। আর প্রথম প্রেমিকাও অন্য জায়গায় সংসার করছিলেন। এর জেরে চলতি ১৬ এপ্রিল বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন দ্বিতীয় প্রেমিকা। প্রেমিকের অনুরোধে ঐ বাড়িতে গিয়ে দ্বিতীয় প্রেমিকাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন প্রথম প্রেমিকা। এরপর প্রেমিক  ও তার পরিবারের কথামত স্বামীকে ১৮ এপ্রিল তালাক দেন প্রথম প্রেমিকা। কিন্তু পরের দিন রাতেই মোটা অংকে যৌতুকে দ্বিতীয় প্রেমিকাকে বিয়ে করেন ঐ যুবক। এ খবর শুনে ঐ যুবকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে প্রথম প্রেমিকা।

৬ মে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেমিকা। এর আগে অবশ্য ঐ প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েও বিয়ে করতে ব্যর্থ হন। এ  সময় প্রেমিকের মা, ভাই ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ করে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি হতে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিয়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন তিনি। একইদিন প্রকাশিত আরেক খবরে জানা যায়, জামালপুরের ইসলামপুরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন এক তরুণী। ঐ তরুণীকে শেরপুর থেকে ইসলামপুরে রেখে পালিয়ে যান প্রেমিক। এরপর বাধ্য হয়েই বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন বলে জানান। প্রেমিক পালিয়ে গেলেও তার বাবা আশার বাণী শুনান। তিনি বলেন, যেহেতু আমার ছেলে ভুল করেছে। আর ঐ মেয়ে আমার বাড়িতে অবস্থান করছে আমি মেনে নেবো।

সবাই যে এসব কর্মসূচি পালন করে ব্যর্থ হয়েছেন তা নয়। ৭ মে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, নওগাঁর রাণীনগরে অনশনের দুইদিন পর প্রেমিক কলেজছাত্রকে বিয়ে করেন প্রেমিকা। এখানে প্রেমিকের পরিবার বিয়েতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফেসবুকের মাধ্যমে ঐ কলেজছাত্রের সঙ্গে এক স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর গত ২ মে ঐ ছাত্রী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেন। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারকে জানালে তারা মেয়েকে নিতে অস্বীকার করেন। দুইদিনেও তার পরিবারের লোকজন অনশনরত মেয়েকে নিতে আসেনি। অবশেষে ছেলের পরিবার গ্রামের মাতবরদের পরামর্শে গত ৪ মে দুজনকে বিয়ে দেন।

৮ মে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের দাবিতে তিন সন্তানের জনক প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন দুই সন্তানের জননী। এরপর ১৩ মে’র এক খবরে জানা যায়, ফরিদপুরের সালথায় প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে তরুণী অনশন শুরু করেন। এর পরের দিনের এক খবরে জানা যায়, ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির প্রেমিকা। আর এর দুইদিন আগেই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে ধরা খেয়ে পালিয়ে যান ঐ প্রেমিক। ২৫ মে খবর প্রকাশিত হয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ে না করায় প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন প্রেমিকা। এ খবর পেয়ে প্রেমিক এবং তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

জুন মাসের ১৫ সংবাদ প্রকাশিত হয়, ভোলার চরফ্যাশনে বিয়ের দাবিতে সহপাঠী প্রেমিকের বাড়িতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অবস্থান। প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে অবশ্য দুই পরিবার তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। পরের দিন প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা যায়। ঐ কলেজছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়ের যার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তাকেই বিয়ে করছে। এতে হয়তো সে সুখে থাকবে। তাই আত্মীয়-স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐ ছেলের সঙ্গেই তার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আর প্রেমিকের বাবার কথাও ছিল প্রায় একই রকম। তিনি বলেন, ছেলে সংসার করবে, সেজন্য মেয়েও পছন্দ করে রেখেছে। তাই তাদের সুখের কথা ভেবে দুইজনের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি তারা সুখে থাকবে।

অনেক সময় বিয়ের দাবির এসব ঘটনা বিব্রতকর সম্পর্কেও হয়ে থাকে। মধ্যে যুগের কবি চণ্ডীদাস লিখেছেন- ‘কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে’। তেমনই এক তথ্য জানা যায়, ১৫ জুন প্রকাশিত এক খবরে। এ থেকে জানা যায়, নেত্রকোণার মদনে চাচা শ্বশুরের সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক’ দেখে ফেলেন স্বামী। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানান স্বামী। এজন্য চাচা শ্বশুরের বিয়ের জন্য অনশনে বসেন এক সন্তানের জননী পুত্রবধূ। এ ঘটনার পর ঐ চাচা শ্বশুর পালিয়ে যান। ১৬ জুন প্রকাশিত হয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন এক স্কুলছাত্রী। এরপর প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

৩১ জুলাইয়ের এক খবরে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন এক তরুণী। ৪ আগস্টের এক খবর থেকে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফলে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন এক তরুণী। আর প্রেমিক পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান। ২৫ আগস্টের এক খবরে আসে, বরিশাল সদরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন। ২৮ আগস্টের আরেক খবরে জানা যায়, ঝালকাঠির নলছিটিতে বিয়ের জন্য প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন। ২৯ আগস্টে প্রকাশিত হয়, গাজীপুর থেকে ভোলায় এসে প্রেমিকের বসতঘরের সামনে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন এক তরুণী।

চণ্ডীদাস লিখেছেন- ‘সই, কেমনে ধরিব হিয়া? আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়, আমার আঙ্গিনা দিয়া!’ ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক খবরে যেন তেমনই যাতনা ধরা দেয়। এ খবরের বিষয়- শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বিয়ের দাবিতে স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান নেন দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রী। 

এরই ধারাবাহিকতায় ৭ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, ১১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অবিবাহিত প্রেমিকার বাড়িতে বিবাহিত নারীর অনশন, ১৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের তরুণীর অবস্থান, ২ অক্টোবর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে কিশোরীর অনশন, একইদিন দিনাজপুরের বিরামপুরে প্রেমিকের বাড়িতে কিশোরীর অনশন, ১৫ অক্টোবর লালমনিরহাটের কুলাঘাটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন, ১৭ অক্টোবর টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তিন সন্তান রেখে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূর অবস্থান, ৫ নভেম্বর মাদারীপুরের ডাসারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে নারীর অনশন, ১৮ নভেম্বর নড়াইল সদরে স্বামীকে তালাক দিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশনের খবর প্রকাশিত হতে দেখা যায়।

এছাড়া ২৪ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, ২৫ নভেম্বর জয়পুরহাটের কালাইয়ে বিয়ের দাবিতে ২৪ বছরের প্রেমিকের বাড়িতে ৫০ বছরের নারীর অনশন, ২ ডিসেম্বর ফরিদপুরের সালথায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকরে বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অবস্থান, ৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশায় পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশনের খবর চোখে পড়ে। 

অনশন কিংবা অবস্থানের বাইরেও ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে দেখা গেছে এক যুবককে। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খবরে জানা যায়, তিনি বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বিষপানে জীবন দেন। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এ ঘটনা ঘটে। ১১ ডিসেম্বরের এক খবরে জানা যায়, বরগুনার তালতলীতে প্রাইভেট শিক্ষকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন এক ছাত্রী। ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়, ভোলার চরফ্যাশনে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বসতঘরে কলেজছাত্রীর অনশন।

এসব মন ভাঙার খবর যেন আর সৃষ্টি না হয় সেটাই হয়তো সব প্রেমিক-প্রেমিকার কাম্য। কারণ প্রেম সুন্দর, চিরন্তন, অনির্বাণ, শাশ্বত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!