ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুড়িয়ে পাওয়া ধানে পিঠা-পুলি

আতিকুর রহমান ঘাটাইল, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
কুড়িয়ে পাওয়া ধানে পিঠা-পুলি
ধান কুড়াচ্ছে শিশুসহ এক নারী- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বিভিন্ন এলাকার মাঠে ধান কুড়াতে দেখা যায় একাধিক শিশু ও নারীদের। এদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। জমিতে পড়ে থাকা পাকা ধান কুড়াতেই তাদের আনন্দ। কারণ কুড়িয়ে পাওয়া এসব ধান দিয়ে তাদের নবান্ন উৎসব হয়।

উপজেলার রামপুর চতিলা গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় ধান কাটা শেষ হয়েছে। দৈনিক তারা ঐ জমি থেকে ২-৩ কেজি ধান সংগ্রহ করেন। এরইমধ্যে তারা ১৫-২০ কেজি ধান সংগ্রহ করেছেন। ধান সংগ্রহের পর ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হয়। সেই ধান মেশিনে ভাঙিয়ে চালের গুঁড়ায় বানানো হয় ভাপা, মুঠো, দুধপুলি, দুধ চিতইসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা। একসময় ঢেঁকিতে ধান বানার প্রচলন থাকলেও এখন তা বিলুপ্ত প্রায়।

গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, ‘শীত আইছে মেয়ে-জামাইকে পিঠা খাওনের দাওয়াত দিতে হইবে। আমাগো আবাদি ক্ষেত নাই। এভাবে যত ধান পাইছি পরিবারের সবাই মিলে পিঠা খেতে পারবো।’

Advertisement

জবেদা বেগম বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় পাড়ার মেয়েরা দলবেঁধে এভাবে ধান কুড়াতাম। এখনকার মেয়েরা চরায় (মাঠে) আসে না। আগের মতো সেই আনন্দ এখন আর নেই। ৩ মেয়ে, জামাই আছে ও নাতি-নাতনিদের পিঠা খাওয়ানোর জন্য ধান কুড়াই।’

জমিরন বেওয়া বলেন, ‘আগে চামারা ধানের আবাদ আছিল, সেই ধানের পিঠা অনেক স্বাদ আছিল। এখন আগের মতো পানি হয় না, তাই চামারা ধানের আবাদ নেই। এখন পাইজাম ও গাইঞ্জা ধানের আবাদ হয়। এগুলোই কুড়াচ্ছি, পিঠা বানামু।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!