মহান বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় লাল-সবুজের পতাকা ফেরি করে বিক্রি করেন শফিকুল। লোকটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে ফেরি করে বিভিন্ন দিবসে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারে পতাকা বিক্রি করে আসছেন। অন্য অনেক পেশার সুযোগ থাকলেও দেশপ্রেমের টানেই তার এই পেশাকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
শফিকুলের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। বাড়িতে স্ত্রী, দুই ছেলেসহ পাঁচজন সদস্য রয়েছে। অভাবের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ডিসেম্বের মাস আসায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পতাকা বিক্রি করতে তিনি আখাউড়ায় চলে আসেন। হেঁটে অলিগলি ঘুরে পতাকা বিক্রি করছেন। আর এই পতাকা বিক্রয়ের অর্থ দিয়েই চলে তার সংসার।
.png)
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, পেয়েছি একটি মানচিত্র। সেইসঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা। এই পতাকা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। আর এই পতাকা বিক্রি করে মনে শান্তি পাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে বেশ কয়েক ধরনের পতাকা রয়েছে। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার পতাকা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে জাতীয় পতাকা সম্বলিত মাথায় বাঁধার বেল্ড, ছোট হাতের জাতীয় পতাকা, কাগজের পতাকা এবং গালে ও কপালে আটকানো স্টিকার। যা ১০ টাকা করে বিক্রি করছি।’
শফিকুল বলেন, ‘আমি দীর্ঘ বছর ধরে জাতীয় পতাকা বিক্রির পেশায় আছি। ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় পতাকা বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ প্রচুর পরিমাণে জাতীয় পতাকা বিক্রি হয়। শুধু ব্যবসার জন্য পতাকা বিক্রি করি না, দেশকে ভালোবেসে পতাকা বিক্রি করি। যখন কেউ একটি পতাকা ক্রয় করে তখন আমার মনের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি হয়।’
পতাকা কিনতে আসা হাসান বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই ছেলের জন্য ছোট দুটি পতাকা কিনেছি। পতাকা দেখে তারা খুবই খুশি হবে।’
পতাকা কিনতে আসা আবু তাহের মিয়া বলেন, ‘আর দুইদিন পর মহান বিজয় দিবস। তাই ছেলের জন্য ছোট আকারের একটি পতাকা ও একটি স্টিকার কিনেছি। ছেলে পতাকা ও স্টিকার দেখে খুবই খুশি হবে।’
ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া বলেন, ‘বাজারে নতুন দোকান দেওয়া হয়েছে। সামনে আসছে মহান বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চ। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে বড় আকারের একটি পতাকা কিনেছি।’