ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘এই পতাকা অমূল্য’ 

সাজেদুর আবেদীন শান্ত, সোনাতলা (বগুড়া) 
প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩
‘এই পতাকা অমূল্য’ 
পতাকা বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, বাংলাদেশের জন্মমাস। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় হয়। আর এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জন্ম।

১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। একটি স্বাধীন দেশ, একটি স্বাধীন জাতি ও একটি স্বাধীন পতাকা। 

তাই বিজয় দিবসকে ঘিরে অনেক উৎসব হলেও এ মাসের শুরু থেকে কাঁধে ব্যাগ ও হাতে বড় একটি বাঁশে বেশ কয়েকটি পতাকা লাগিয়ে ফেরি করেন বাংলাদেশের পতাকা। প্রায় সারা দেশেই দেখা মেলে এ দৃশ্যের।

Advertisement

আজ বগুড়ার সোনাতলায় বেশ কয়েকজনকে দেখা যায় এভাবেই পতাকা বিক্রি করতে।

কথা হয় তাদের একজন বিক্রেতার সঙ্গে। নাম তার তরিকুল ইসলাম। বয়স ৩২ বছর। গ্রাম ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাউতিপাড়ায়। 

পতাকা হাতে তরিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘আমি সারা বছর অটোরিকশা চালাই। আর বিজয় দিবস এলেই পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়ি বিক্রির জন্য। প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গায় গেলেও এবার এলাম উত্তরবঙ্গে’।

তিনি আরো বলেন, ‘আসলে পতাকা তো দাম দিয়ে কেনা যায় না। আমাদের যা দেয় তা হলো কাপড়ের দাম, মজুরির দাম। পতাকা অমূল্য। এই অমূল্য পতাকা বিক্রি করার সাহস কি আমার আছে’!  

তার এই কথাটি মাথায় ঠুকোর খাচ্ছে, ‘পতাকা অমূল্য। এই অমূল্য পতাকা বিক্রি করার সাহস কি আমার আছে’! আসলেই তো তাই! এভাবে তো কখনও ভেবে দেখিনি। যা আমরা বুঝলাম না, একজন পতাকা বিক্রেতা তা বুঝলো।

মাইক্রোস্টান্ড মোড়ে কথা হয় আরো একজন পতাকা বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, দিনে প্রায় ১ হাজার-১২শ টাকার মতো পতাকা বিক্রি করি। বেচাকেনা ভালোই হয়। 

কারা এসব পতাকা কেনেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা, বিভিন্ন দোকানদার, রিকশা-ভ্যান চালকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি কেনে’।

এরই মধ্যে ছোট একটি কাঠিতে বাঁধা পতাকা কিনে অটো রিকশায় লাগান শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘এ মাসটা খুশির মাস, দেশকে ভালোবাসার মাস। এ মাসেই হামাগেরে দ্যাশ স্বাধীন অইছে। তাই একটা পতাকা কিনে অটোভ্যানে লাগালাম। বাতাসে উড়বো, দেখতে ভালাই লাগব’।

সোনাতলা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ মাসে অলিতে গলিতে পতাকা বিক্রি হয়। এটা একটা ভালো দিক। তবে মাঝে মাঝেই দেখা যায় ভুল মাপ, ভুল রঙের পতাকা বানিয়ে বিক্রি করে এটা খুবই খারাপ দিক। এতে পতাকার অবমাননা করা হয়। এটা দুঃখজনক। আমাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পতাকা উত্তোলন করে না এই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে’। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ:  বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!